ছবি: শমশেরনগর বিমানবন্দর, মৌলভীবাজার।
মৌলভীবাজারের শমশেরনগর বিমানবন্দরসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় বহু বছর ধরে বন্ধ ও কম ব্যবহৃত বিমানবন্দরগুলো পুনরায় চালুর সম্ভাবনা যাচাই করছে সরকার। এ লক্ষ্যে বিস্তারিত সম্ভাব্যতা সমীক্ষা (ফিজিবিলিটি স্টাডি) পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে ঢাকা-১৮ আসনের সরকারি দলের সংসদ সদস্য এসএম জাহাঙ্গীর হোসেনের টেবিলে উত্থাপিত তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।
মন্ত্রী বলেন, দেশে বন্ধ ও কম ব্যবহৃত বিমানবন্দরগুলো পুনরায় চালুর সম্ভাবনা যাচাইয়ের মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ আকাশপথে যোগাযোগ আরও জোরদার করা এবং আঞ্চলিক উন্নয়নে ভারসাম্য আনার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, বর্তমানে বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দর, নেভিগেশন সেবা প্রদানকারী স্থাপনা, বিমান বাহিনীর ঘাঁটি এবং পুরোনো স্বল্প দূরত্বে উড্ডয়ন-অবতরণ (এসটিওএল) সুবিধাসহ মোট ১৭টি বিমানবন্দর রয়েছে।
বাংলাদেশের তিনটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর- হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ উভয় ধরনের ফ্লাইট পরিচালিত হচ্ছে। এছাড়া সৈয়দপুর, শাহ মখদুম (রাজশাহী), যশোর, বরিশাল ও কক্সবাজার বিমানবন্দর থেকে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট পরিচালনা করা হচ্ছে।
মন্ত্রী আরও জানান, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নির্মিত শমশেরনগর, ঠাকুরগাঁও, লালমনিরহাট, ঈশ্বরদী, কুমিল্লা ও পটুয়াখালী- এই ছয়টি এসটিওএল বিমানবন্দর বর্তমানে বন্ধ বা কম ব্যবহৃত অবস্থায় রয়েছে। তবে কুমিল্লা বিমানবন্দরে বাণিজ্যিক ফ্লাইট না থাকলেও বিদেশি উড়োজাহাজের নেভিগেশন সেবা দেওয়া হচ্ছে।
এছাড়া ঢাকার তেজগাঁও বিমানবন্দর বর্তমানে যাত্রীসেবা প্রদান করে না এবং এটি বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে।
আফরোজা খানম বলেন, ‘নির্বাচনি ইশতেহারের অংশ হিসেবে ছোট বিমানবন্দর ও এয়ারস্ট্রিপ উন্নয়নের মাধ্যমে বিভাগীয় ও জেলা শহরগুলোকে ধাপে ধাপে আকাশপথে যুক্ত করে জাতীয় নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।’
তিনি জানান, জনচাহিদার ভিত্তিতে স্থানীয় পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বন্ধ বিমানবন্দরগুলো পুনরায় চালুর সম্ভাবনা যাচাইয়ের কাজ শুরু হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে বগুড়া বিমানবন্দর স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়কে (বুয়েট)।
মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও উন্নত হবে, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়বে এবং আঞ্চলিক উন্নয়নে ভারসাম্য তৈরি হবে।
