দীর্ঘদিনের স্থবিরতা ও ইমেজ সংকট কাটিয়ে আসন্ন ঈদুল ফিতরকে ঘিরে আবারও পর্যটকদের পদচারণায় মুখর হতে যাচ্ছে সিলেট। পাথর লুটকাণ্ডের পর ধাক্কা খাওয়া এ অঞ্চলের পর্যটন খাত নতুন করে ঘুরে দাঁড়াবে, এমন প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর প্রশাসনিক দুর্বলতার সুযোগে সিলেটের বিভিন্ন পর্যটন স্পটে ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়। বিশেষ করে সাদা পাথর এলাকায় নজিরবিহীন পাথর লুটের ঘটনায় পর্যটন খাত বড় ধরনের সংকটে পড়ে। পরে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে লুট হওয়া পাথর পুনঃস্থাপনসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হলে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করে।
এদিকে ঈদের দীর্ঘ ছুটিকে সামনে রেখে পর্যটক বরণে প্রস্তুতি নিচ্ছে সিলেট। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও ট্যুর অপারেটররা বলছেন, ইতোমধ্যে অধিকাংশ হোটেল ও রিসোর্টে বুকিং সম্পন্ন হয়েছে। দীর্ঘদিনের মন্দা কাটিয়ে এবার শতকোটি টাকার ব্যবসার সম্ভাবনাও দেখছেন তারা। সূত্র জানিয়েছে, ইতোমধ্যে সিলেটের প্রায় ৮৫ শতাংশ আবাসিক হোটেল ইতোমধ্যে বুকিং হয়ে গেছে।
পর্যটন সংশ্লিষ্টরা জানান, সিলেটের জাফলং, সাদা পাথর, বিছনাকান্দি, রাতারগুল ও পান্তুমাইসহ বিভিন্ন স্পট ঈদে পর্যটকদের প্রধান আকর্ষণ হয়ে উঠবে। সম্প্রতি বৃষ্টির কারণে এসব স্থানে স্বচ্ছ পানির প্রবাহ ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আরও বৃদ্ধি পেয়েছে, যা পর্যটকদের টানবে।
নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ট্যুরিস্ট পুলিশ ইতোমধ্যে বিভিন্ন পর্যটন স্পটে টহল জোরদার করেছে। পাশাপাশি যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে কঠোর নজরদারি রাখা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে বিশেষ পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের কথাও জানানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের ধারণা, ঈদের ছুটিতে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন পর্যটন স্পটে ৮ থেকে ১০ লাখ পর্যটকের সমাগম ঘটতে পারে। এতে ১০০ থেকে ১৫০ কোটি টাকার ব্যবসা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা এ অঞ্চলের অর্থনীতিতে নতুন গতি আনতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্য ইস্যুতে ক্ষতিগ্রস্ত সিলেটের অর্থনীতিকে সচল রাখতে পর্যটন খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। পর্যাপ্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা, অবকাঠামো উন্নয়ন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেলে এই খাত ঘুরে দাঁড়িয়ে স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
