সিলেট বিভাগে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় ২৪ ঘণ্টায় ছয়জনের প্রাণহানীর ঘটনা ঘটেছে। ঈদের পরদিন রোববার (২২ মার্চ) হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জে এসব দুর্ঘটনা ঘটে।
এর মধ্যে হবিগঞ্জের মাধবপুরে একটি পিকআপ ভ্যান খাদে পড়ে নারী ও শিশুসহ চারজন নিহত হন। একই দিনে সুনামগঞ্জে মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগে আরও দুইজনের মৃত্যু হয়েছে।
সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার গাগলী এলাকায় রোববার দুপুরে সুনামগঞ্জ-দিরাই সড়কে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় দু’জন নিহত ও একজন আহত হন। নিহতরা হলেন শান্তিগঞ্জ উপজেলার মুক্তাখাই গ্রামের আক্কেল আলীর ছেলে সাইদুল ইসলাম (৩০) এবং একই গ্রামের মৃত উকিল আলীর ছেলে সফিকুল ইসলাম (২৮)।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তিন বন্ধু মোটরসাইকেলে করে তাহিরপুরের শিমুল বাগানে যাওয়ার পথে গাগলী এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। এতে ঘটনাস্থলেই একজন গুরুতর আহত হন এবং অপরজনকে উদ্ধার করে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত আরেকজনকে সিলেটের এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর বিকেলে তাকেও মৃত ঘোষণা করা হয়। আহত গুলজার আহমদকে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক আমজাদ হোসেন জানান, দুর্ঘটনায় তিনজনের মধ্যে একজন হাসপাতালে আসার আগেই মারা যান এবং গুরুতর আহত আরেকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেটে পাঠানো হয়। পরে তারও মৃত্যু হয়।
শান্তিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. অলি উল্যাহ জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার আন্দিউড়া এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ভোরে একটি পিকআপ ভ্যান নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে পানিতে ডুবে যায়। এতে চারজন নিহত হন।
নিহতদের মধ্যে পিকআপ চালক সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার বাসিন্দা ইব্রাহীম (৩৫), কিশোরগঞ্জের সজিব (১২) এবং তার মা আসমা আক্তার (৪০) রয়েছেন। অপর এক পুরুষের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
মাধবপুর থানার এসআই আব্দুর রহিম জানান, সিলেট থেকে কিশোরগঞ্জ যাওয়ার পথে আসবাবপত্র বোঝাই পিকআপটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খালে পড়ে যায়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পিকআপের কেবিন থেকে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করে।
তিনি আরও জানান, মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে এবং নিহতদের পরিচয় শনাক্তে কাজ করছে পুলিশ। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
