ঈদের ছুটিতে প্রাণোচ্ছ্বল সিলেটের পর্যটন কেন্দ্রগুলো, উপচে পড়া ভিড়
প্রকাশ: ২৪ মার্চ ২০২৬ ২১:৩৫
ছবি: সংগৃহীত
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে টানা ছুটিতে প্রাণ ফিরে পেয়েছে সিলেট-এর পর্যটন কেন্দ্রগুলো। পর্যটকদের ব্যাপক আগমনে জমে উঠেছে গোয়াইনঘাটসহ বিভিন্ন স্পট, ফিরে এসেছে পর্যটন সংশ্লিষ্টদের কর্মচাঞ্চল্যতা।
ঈদের দিন থেকে শুরু করে চতুর্থ দিন মঙ্গলবার পর্যন্ত প্রায় কয়েক লাখ পর্যটক ভিড় করেছেন গোয়াইনঘাট উপজেলা-এর পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি পর্যটক ঘুরতে এসেছেন প্রকৃতি কন্যা খ্যাত জাফলং-এ। এছাড়াও প্রকৃতির অপ্সরা-খ্যাত বিছনাকান্দি এবং জলার বনখ্যাত রাতারগুল সোয়াম্প ফরেস্ট-এও ছিল পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়।
পর্যটকরা ভারতের মেঘালয়-এর সবুজ পাহাড়, পাথর ও ঝর্ণার সৌন্দর্য উপভোগ করতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ছুটে আসেন। সকাল থেকেই দলবেঁধে ঘুরতে বের হয়ে অনেকে পরিবার-পরিজন ও বন্ধু-বান্ধব নিয়ে ছবি তুলছেন, আবার কেউ নৌকায় করে ঝর্ণা, খাসিয়া পল্লি ও চা-বাগান ঘুরে দেখছেন।
তবে মঙ্গলবার বিকেলে হালকা বৃষ্টির কারণে কিছুটা ভোগান্তিতে পড়তে হয় পর্যটকদের।
পর্যটকদের এই ব্যাপক আগমনে স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। নৌকা মাঝি, হোটেল-রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ী, ট্যুর গাইড, ফটোগ্রাফার ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মাঝে ফিরে এসেছে কর্মব্যস্ততা। বেশিরভাগ হোটেল-মোটেলের প্রায় ৮০ শতাংশ কক্ষ আগেই বুকিং হয়ে যায় এবং রেস্টুরেন্টগুলোতেও দেখা যায় বাড়তি ব্যস্ততা।
রাজশাহী থেকে আসা এক পর্যটক জানান, ঈদের ছুটি পেয়ে পরিবার নিয়ে ঘুরতে এসে এখানকার পাহাড়, পাথর ও স্বচ্ছ জলের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়েছেন তারা।
বৃহত্তর জাফলং পর্যটনকেন্দ্র ব্যবসায়ী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সেলিম মাহমুদ বলেন, ঈদের ছুটিতে পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে প্রাণ ফিরে পেয়েছে, এতে ব্যবসায়ীরাও খুশি।
জাফলং পর্যটন কেন্দ্র ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি হোসেন মিয়া জানান, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর ঈদের ভিড়ে ব্যবসায়ীদের ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের কথা জানিয়ে ট্যুরিস্ট পুলিশ জাফলং জোনের ইনচার্জ তপন তালুকদার বলেন, পর্যটকদের নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ নজরদারি রাখা হয়েছে।
এদিকে গোয়াইনঘাট উপজেলা প্রশাসন-এর নির্বাহী কর্মকর্তা রতন কুমার অধিকারী জানান, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে থানা পুলিশ, ট্যুরিস্ট পুলিশ, বিজিবি, ফায়ার সার্ভিস, আনসার ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকরা সমন্বিতভাবে কাজ করছেন।
