শিরোনাম
বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশকারীদের জন্য পশ্চিমবঙ্গে প্রতিটি জেলায় আটক শিবির আওয়ামী লীগের নির্বাচনে ফেরার সম্ভাবনা দেখছেন সাবেক উপদেষ্টা ঋণ সংকটে বন্ধ হলো সিলেটের চার চা বাগান পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষ্যে খন্দকার মুক্তাদিরের শুভেচ্ছা ঈদের দিনে কেমন থাকবে সিলেটের আবহাওয়া সিলেটের ভোটে থাকছে না সেনাবাহিনী, কবে হতে পারে নির্বাচন এক দিনে আরও তিন শিশুর মৃ/ত্যু, থামছেই না সিলেটের হামের আত/ঙ্ক প্রবাসে লোক পাঠানোর নামে প্রতার.ণাকারীদের বিরুদ্ধে প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রীর হুশিয়ারি ফাহিমার বাসায় গেলেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার মুক্তাদির সিলেটের আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে পয়েন্টে পয়েন্টে বসবে ফেস রিকগনিশন ক্যামেরা: বাণিজ্যমন্ত্রী

https://www.emjanews.com/

15928

economics

প্রকাশিত

২৫ মে ২০২৬ ২০:০২

আপডেট

২৫ মে ২০২৬ ২০:০৪

অর্থনীতি

ঋণ সংকটে বন্ধ হলো সিলেটের চার চা বাগান

প্রকাশ: ২৫ মে ২০২৬ ২০:০২

ছবি: সংগৃহীত

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ ও হবিগঞ্জের তিনটিসহ দেউন্দি টি কোম্পানির অধীন চারটি চা বাগানে সাপ্তাহিক মজুরি বন্ধ থাকায় কর্মবিরতি পালন করছেন শ্রমিকরা। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক থেকে ঋণ না পাওয়ায় চরম অর্থ সংকটে পড়ে শ্রমিকদের মজুরি দিতে পারছে না বাগান কর্তৃপক্ষ। ঈদের আগে মজুরি না পেয়ে চরম হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শ্রমিকরা।

সোমবার থেকে কর্মবিরতি শুরু করেন শ্রমিকরা। বিশেষ করে ঈদুল আজহার আগে মজুরি না পাওয়ায় বাগানগুলোতে বসবাসরত মুসলিম শ্রমিক পরিবারগুলো মানবেতর অবস্থার মধ্যে পড়েছে।

দেউন্দি টি কোম্পানি লিমিটেডের কমলগঞ্জ উপজেলার মিরতিংগা চা বাগানের ব্যবস্থাপক ও উপ-ব্যবস্থাপকের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক ঋণ প্রদান না করায় শ্রমিকদের সাপ্তাহিক মজুরি প্রদান বন্ধ রয়েছে। ব্যাংক ঋণের ওপর পরবর্তী মজুরি নির্ভর করছে। একই সঙ্গে কর্তৃপক্ষ জানায়, যতদিন পর্যন্ত ব্যাংক ঋণের ব্যবস্থা না হচ্ছে, ততদিন শ্রমিকদের বেতন-ভাতা বহন করা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়।

বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর ক্ষুব্ধ শ্রমিকরা বাগান কার্যালয়ের সামনে জড়ো হয়ে বকেয়া মজুরির দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে পূর্বঘোষিত আল্টিমেটাম অনুযায়ী মিরতিংগা চা বাগানের কারখানায় কর্মবিরতি পালন করা হয়।

শ্রমিকদের অভিযোগ, প্রতি বৃহস্পতিবার সাপ্তাহিক মজুরি দেওয়ার নিয়ম থাকলেও এবার কৃষি ব্যাংকের ঋণ সংকটের অজুহাতে তা পরিশোধ করা হয়নি। মিরতিংগা চা বাগানে দুই শতাধিক মুসলিম চা শ্রমিক পরিবার রয়েছে, যাদের জীবন-জীবিকা সম্পূর্ণভাবে এই মজুরির ওপর নির্ভরশীল।

মিরতিংগা চা বাগান পঞ্চায়েত সভাপতি মন্টু অলমিকের সভাপতিত্বে কর্মবিরতিতে নেতৃত্ব দেন বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের মনু-ধলই ভ্যালির সভাপতি ও স্থানীয় ইউপি সদস্য ধনা বাউরি, চা ছাত্র যুব পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক মানিক প্রসাদ পাল, সিরাজুল ইসলাম জব্বার, রামনারাইন কৈরী, ইমরান নাজির এবং মহিলা দফার সর্দার নিয়তি রাজগৌড়সহ অন্যরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কৃষি ব্যাংকের ঋণ জটিলতার কারণে দেউন্দি টি কোম্পানির অধীন মিরতিংগা, লালচান্দ, নয়াপাড়া ও দেউন্দি চা বাগানে শ্রমিকদের সাপ্তাহিক মজুরি, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, ঈদ বোনাস ও পূজা বোনাসসহ বিভিন্ন খরচ পরিশোধে সংকট তৈরি হয়েছে।

বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের মনু-ধলই ভ্যালির সভাপতি ধনা বাউরি বলেন, ‘ঈদের ঠিক আগে পূর্ণ মজুরি না পাওয়ায় শ্রমিকরা কাজ বন্ধ রেখেছেন। শতাধিক মুসলিম শ্রমিক পরিবার চরম দুর্ভোগে পড়েছে। কোম্পানি বকেয়া পরিশোধেরও কোনো নিশ্চয়তা দিচ্ছে না।’

চা শ্রমিক সংঘ মৌলভীবাজার জেলা কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শ্যামল অলমিক ও সাধারণ সম্পাদক হরিনারায়ণ হাজরা এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, ‘বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে দৈনিক ১৮৭ টাকা ৪৩ পয়সা মজুরিতে এমনিতেই শ্রমিকদের জীবনযাপন কঠিন। তার ওপর সপ্তাহজুড়ে কাজ করেও মজুরি না পাওয়ায় শ্রমিকরা চরম সংকটে পড়েছেন।’

তারা আরও অভিযোগ করেন, ২০২২ সালের চার হাজার টাকা এরিয়ার বকেয়া এখনও পরিশোধ করা হয়নি। পাশাপাশি শ্রমিকদের প্রভিডেন্ট ফান্ডের অর্থ নিয়মিত জমা দেওয়া হয় না এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবাও মিলছে না।

এদিকে হবিগঞ্জের নয়াপাড়া চা বাগান পঞ্চায়েত সভাপতি কমেট নায়েক বলেন, সমস্যা সমাধানে বৈঠক চলছে। আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হবে কি না, তা পরে জানা যাবে।

অন্যদিকে মিরতিংগা চা বাগানের উপ-ব্যবস্থাপক রেজাউল হায়াত খান ইমন দাবি করেন, শ্রমিকদের কোনো বকেয়া নেই। ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করা সম্ভব হয়নি। এই সপ্তাহে অর্ধেক মজুরি দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হলেও শ্রমিকরা তা গ্রহণ না করে আন্দোলনে নেমেছেন।