উজানধলে শাহ আবদুল করিম লোক উৎসব: গানে-আলোচনায় মানবমুক্তির বার্তা
প্রকাশ: ২৮ মার্চ ২০২৬ ১৯:৩৮
ছবি: বাউলসম্রাট শাহ আবদুল করিম
মানুষের মুক্তি, সাম্য ও সম্প্রীতির বার্তাই ছিল বাউলসম্রাট শাহ আবদুল করিম-এর জীবন ও গানের মূল সুর- এমন মন্তব্য করেছেন বক্তারা। তাঁর গান আজও শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে মানুষের লড়াইয়ে প্রেরণা জোগায় বলেও তারা উল্লেখ করেন।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার উজানধল গ্রামে দুই দিনব্যাপী শাহ আবদুল করিম লোক উৎসবের উদ্বোধনী আলোচনায় এসব কথা বলা হয়। বাউলসম্রাটের ১১০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে জেলা প্রশাসন ও শাহ আবদুল করিম পরিষদের যৌথ উদ্যোগে এ উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে।
বিকেলে করিমের বাড়ি থেকে তাঁর বিখ্যাত গান গেয়ে বাউলদের একটি দল হেঁটে হেঁটে উৎসবস্থলে আসে। মাঠজুড়ে ছিল হাজারো মানুষের ভিড়। বাড়ির দক্ষিণ পাশে কালনী নদী-এর তীরে গড়ে ওঠে ছোট ছোট গানের আসর। সুরের মূর্ছনায় মুখর হয়ে ওঠে উজানধল গ্রাম।
রাত আটটায় সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়ার সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য নাছির উদ্দিন চৌধুরী।
বিশেষ অতিথি ছিলেন পুলিশ সুপার এ বি এম জাকির হোসেন, দিরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সনজীব সরকার ও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আলী আহমদ।
স্বাগত বক্তব্য দেন শাহ আবদুল করিম পরিষদের সভাপতি ও তাঁর ছেলে শাহ নূর জালাল।
বক্তারা বলেন, শাহ আবদুল করিম ছিলেন ক্ষণজন্মা মানুষ। তাঁর জীবনঘনিষ্ঠ, আধ্যাত্মিক ও মর্মস্পর্শী গান মানুষের হৃদয়ে গভীরভাবে নাড়া দেয়। সহজ জীবনবোধ, মানুষের প্রতি ভালোবাসা ও প্রকৃতির প্রতি মমত্ব তাঁর সৃষ্টিতে ফুটে উঠেছে।
প্রধান অতিথি বলেন, মানুষের মধ্যেই তিনি তাঁর ধ্যান-জ্ঞান খুঁজে পেয়েছিলেন। এই লোক উৎসব সাম্য ও মৈত্রীর এক অনন্য মিলনমেলা। তাঁর গান শুদ্ধভাবে পরিবেশন করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
জেলা প্রশাসক বলেন, সুনামগঞ্জ বাউল-সাধক ও গুণীজনের জন্মভূমি। সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে সমৃদ্ধ এ অঞ্চলে শাহ আবদুল করিম সাধারণ ভাষায় অসাধারণ দর্শন তুলে ধরেছেন। তাঁর সৃষ্টিকর্ম সংরক্ষণে প্রশাসন কাজ করে যাবে বলেও জানান তিনি।
উদ্বোধন শেষে মঞ্চে পরিবেশিত হয় বাউলসম্রাটের জনপ্রিয় গান। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ভক্ত-অনুরাগীরা মুগ্ধ হয়ে উপভোগ করেন সেসব পরিবেশনা।
উল্লেখ্য, বাংলা লোকসংগীতের এই কিংবদন্তিকে স্মরণে ২০০৬ সাল থেকে নিয়মিত এই উৎসবের আয়োজন করা হচ্ছে। শাহ আবদুল করিম ১৯১৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি এই উজানধল গ্রামেই জন্মগ্রহণ করেন এবং ২০০৯ সালের ১২ সেপ্টেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন। শনিবার (আজ) উৎসবের সমাপ্তি হওয়ার কথা রয়েছে।
