সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও আওয়ামী লীগ নেতা আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী রাজনীতি থেকে অবসর নিচ্ছেন—এমন একটি দাবি গত কয়েক দিন ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে সিলেটের বিভিন্ন আঞ্চলিক গ্রুপ ও ফেসবুক পেজে একটি স্ক্রিনশট ঘুরে বেড়াচ্ছে, যেখানে বলা হচ্ছে তিনি নাকি “ব্যক্তিগত কারণে রাজনীতি থেকে আনুষ্ঠানিক বিদায়ের ঘোষণা দিয়েছেন” এবং “নতুন প্রজন্মের জন্য জায়গা ছেড়ে দিতে চান”।
তবে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এই দাবি সম্পূর্ণ অসত্য এবং একটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত গুজব। আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী নিজেও তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে বিষয়টি পরিষ্কার করে লিখেছেন, দাবি করেছেন যে এটি বিভ্রান্তিকর এবং মনগড়া অপপ্রচার।
অনলাইনে যেসব পোস্ট ভাইরাল হয়েছে, সেগুলোতে উল্লেখ ছিল যে একটি ভুঁইফোড় ফেসবুক পেজ “সিলেটের মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী রাজনীতি থেকে বিদায় ঘোষণা দিলেন” শিরোনামে খবর প্রকাশ করেছে। তিনি বলেন, এমন কোনো বক্তব্য তিনি কখনো দেননি এবং কাউকে জানানওনি। খবরটি তার ভাষায় “সম্পূর্ণ মিথ্যা, গুজব এবং ভুল তথ্য ছড়ানোর অপচেষ্টা”।
২০২৩ সালের সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র নির্বাচিত হন আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ঘটনার পর তিনি আত্মগোপনে চলে যান। পরে জানা যায়, তিনি যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছেন। একই সময় তার বিরুদ্ধে সিলেটের কয়েকটি থানায় হামলা ও সহিংসতার অভিযোগে মামলাও হয়।
রাজনীতি ছাড়ার গুজব নিয়ে তিনি বলেন, এই ধরনের প্রচারণা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মনোবল ভেঙে দেওয়ার একটি কৌশল। তার ভাষায়, “বঙ্গবন্ধু আমার আদর্শ, শেখ হাসিনা আমার নেতা, আমি আওয়ামী লীগের কর্মী।” তিনি আরও লিখেছেন, “সিলেটবাসীর ভালোবাসায় মেয়র নির্বাচিত হয়েছি। শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত সিলেটের মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকব। আন্দোলনের পথেই আমরা গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে কাজ চালিয়ে যাচ্ছি।”
এ ছাড়া তিনি দাবি করেন, অনলাইনে এসব গুজব ছড়ানো হচ্ছে রাজনৈতিকভাবে বিভ্রান্তি তৈরির উদ্দেশ্যে। তার অভিযোগ, বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশের সার্বভৌমত্ব, অর্থনীতি ও বাজারব্যবস্থা নিয়ে সংকট সৃষ্টি হয়েছে। তিনি মনে করেন, জনগণ শিগগিরই বৃহত্তর আন্দোলনের মাধ্যমে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনবে।
সংক্ষেপে, ফ্যাক্টচেক বলছে: আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী রাজনীতি ছাড়ার কোনো ঘোষণা দেননি। অনলাইনে ছড়ানো দাবি মিথ্যা ও গুজব।
