সিলেটে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে হাজির হয়ে সাবেক মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যরা সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত হত্যাচেষ্টা মামলায় নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছেন শ্রম, কর্মসংস্থান ও প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, জাতীয় সংসদের হুইপ জি কে গউছ ও সাবেক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী ও বর্তমান সংসদ সদস্য লুৎফুজ্জামান বাবর। মামলাটিকে বানোয়াট ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উল্লেখ করেন এবং আদালতে নিজেদের অব্যাহতির দাবি জানান।
আজ সোমবার (৭ এপ্রিল) দুপুরে আসামিরা আদালতে হাজির হয়ে ওই মামলায় ৩৪২ ধারায় পরীক্ষা দেন। এসময় তারা স্বশরীরে নিজেদের বক্তব্য উপস্থাপন করেন এবং মামলাকে মিথ্যা, হয়রানিমূলক ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অভিহিত করেন।
হাজিরা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, আমরা আমাদের জবানবন্দী দিয়েছি। এই মামলায় ন্যায় বিচার হলে আমরা নির্দোষ প্রমাণিত হবো।
সংসদের হুইপ জিকে গউছ বলেন, এই মামলা ভিত্তিহীন, বানোয়াট এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত। কেবলমাত্র আমাদের জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে বিএনপিকে দুর্বল করার জন্য, আমাদের সাংগঠনিকভাবে দুর্বল করার জন্য সাজানো এই মামলায় আমাদের আসামী করা হয়েছিলো। আজকে ৩৪২ ধারায় আমরা মহামান্য আদালতের সামনে আমরা আমাদের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছি, আমরা ন্যায় বিচার প্রত্যাশা করছি। আমরা বিশ্বাস করি আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হওয়ার জন্য ন্যায় বিচারের কোন বিকল্প নেই।
আসামিপক্ষের আইনজীবী এটিএম ফয়েজ জানান, ২০০৪ সালের ২১ জুন সুনামগঞ্জের দিরাই বাজারে সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের নির্বাচনী সমাবেশে গ্রেনেড হামলার ঘটনায় যুবলীগের এক কর্মী নিহত হন এবং আরও ২৯ জন আহত হন। সেদিন সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত ছিলেন প্রধান অতিথি। দিরাই থানার এসআই হেলাল উদ্দিন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা দায়ের করেন।
দীর্ঘ তদন্ত ও শুনানির পর ২০২০ সালের ২২ অক্টোবর লুৎফুজ্জামান বাবর, আরিফুল হক চৌধুরী, জি কে গউছসহ ১০ জনকে আসামি করে অভিযোগ গঠন করা হয়। মামলায় ১২৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ রয়েছে।
দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের পিপি আবুল হোসেন জানান, আসামি পরীক্ষা শেষে আদালত ২১ এপ্রিল যুক্তিতর্কের তারিখ নির্ধারণ করেছেন। মামলার শুনানিতে সিলেট জেলা পিপি আশিক উদ্দিন ও মহানগর পিপি বদরুল আলম চৌধুরীসহ আইনজীবী ও সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে আসামিরা বিমানযোগে সিলেটে এসে আদালত চত্বরে হাজির হন। এসময় বিপুলসংখ্যক আইনজীবী ও দলীয় নেতাকর্মী তাদের ঘিরে রাখেন এবং আদালতের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়।
