সয়াবিন তেল লিটারে ১২ টাকা বাড়াতে সরকারকে সিন্ডিকেটের চাপ
সরবরাহ বন্ধের হুঁশিয়ারি
প্রকাশ: ১০ এপ্রিল ২০২৬ ১৯:৪৫
ছবি: সংগৃহীত
দেশের ভোজ্যতেলের বাজার গত বছরের নভেম্বর থেকে ৫-৬টি কোম্পানির সিন্ডিকেটের দখলে অস্থির হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পর্যাপ্ত মজুত থাকা সত্ত্বেও সরবরাহ কমিয়ে কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হচ্ছে, যার ফলে বাজার থেকে প্রায় উধাও হয়ে গেছে বোতলজাত সয়াবিন তেল।
এ অবস্থায় খোলা সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ৩৫ টাকা বেড়ে ২১০ টাকায় পৌঁছেছে। ডিসেম্বরে সরকার মূল্য সমন্বয় করলেও বাজারে অস্থিরতা কমেনি। বরং সম্প্রতি মিলমালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন আবারও লিটারে ১২ টাকা দাম বাড়ানোর জন্য সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে।
সংগঠনটি প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ২০৭ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছে, যা বর্তমানে সরকার নির্ধারিত ১৯৫ টাকা। এছাড়া ৫ লিটারের বোতল ১ হাজার ২০ টাকা, খোলা সয়াবিন ১৮৫ টাকা এবং পাম তেল ১৭৭ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে সরকারের অনুমোদন ছাড়াই নতুন দাম কার্যকরের ঘোষণা দিয়েছে ব্যবসায়ীরা। এমনকি মূল্য বৃদ্ধি না হলে সরবরাহ বন্ধের হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, রাজধানীর নয়াবাজার, মালিবাগ ও বাড্ডা গুদারাঘাট এলাকায় এক লিটারের বোতল সয়াবিন তেল পাওয়া যাচ্ছে না। পাঁচ লিটারের বোতলও অনেক ক্ষেত্রে অনুপস্থিত। খোলা সয়াবিন তেল সরকার নির্ধারিত ১৭৬ টাকার পরিবর্তে ২১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা লিটারে ৩৪ টাকা বেশি।
এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অভিযান জোরদার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। বুধবার দেশজুড়ে পরিচালিত ৯টি মোবাইল কোর্টে ১ লাখ ৪২ হাজার ১৭৩ লিটার ভোজ্যতেলের অস্বাভাবিক মজুত চিহ্নিত করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্টদের ৬ লাখ ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে রোববার ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠকে বসছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে বর্তমান মূল্যই বিশ্ববাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, ফলে নতুন করে দাম বাড়ানোর প্রয়োজন নেই।
কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) ভাইস প্রেসিডেন্ট এসএম নাজের হোসাইন বলেন, ‘ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষায় আগের সরকার ব্যর্থ ছিল এবং এখনও বাজারে কার্যকর তদারকি নেই।’ তিনি বাজার ব্যবস্থাপনায় সংস্কার ও সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
অন্যদিকে টিকে গ্রুপের পরিচালক শফিউল আতহার তসলিম দাবি করেন, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় কোম্পানিগুলো লোকসানে পড়ছে, তাই মূল্য সমন্বয় প্রয়োজন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা ও সিন্ডিকেট ভাঙতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভোক্তাদের দুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে।
