হাওরে ধান কাটার শ্রমিক সংকট: সুনামগঞ্জে ১০ দিন বালুমহাল ও শুল্ক স্টেশন বন্ধ
প্রকাশ: ২০ এপ্রিল ২০২৬ ২০:৩৫
ছবি: সংগৃহীত
হাওরে বোরো ধান কাটার শ্রমিকসংকট মোকাবিলায় সুনামগঞ্জ জেলায় সব বালুমহাল ও শুল্ক স্টেশন ১০ দিনের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। ২০ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত জেলার সব বালুমহালে বালু উত্তোলন ও পরিবহন বন্ধ থাকবে, পাশাপাশি শুল্ক স্টেশনগুলোর কার্যক্রমও স্থগিত থাকবে।
রোববার (১৯ এপ্রিল) বিকেলে জেলা প্রশাসনের রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর (আরডিসি) স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। এছাড়া তাহিরপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী তিনটি শুল্ক স্টেশন বন্ধ থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তাহিরপুর কয়লা আমদানিকারক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ খসরুল আলম।
এর আগে শনিবার মাইকিং করে জেলার অন্যতম বড় বালুমহাল যাদুকাটা নদী এলাকায় বালু উত্তোলন ও পরিবহন বন্ধের ঘোষণা দেওয়া হয়। কামরুজ্জামান কামরুল এর নির্দেশনায় এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে সুনামগঞ্জের হাওর এলাকায় বোরো ধান কাটা শুরু হলেও অনেক স্থানে বৃষ্টির পানি জমে থাকায় কম্বাইন হারভেস্টার দিয়ে ধান কাটতে সমস্যা হচ্ছে। কোথাও কোথাও পানির কারণে মেশিন ব্যবহারই সম্ভব হচ্ছে না। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে তীব্র শ্রমিক সংকট।
স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য, হাওরের অনেক ধান ইতোমধ্যে পানিতে ডুবে গেছে। বিভিন্ন এলাকায় ফসল রক্ষা বাঁধ কেটে কিংবা পাম্প বসিয়ে পানি নিষ্কাশনের চেষ্টা করছেন তারা। আগে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে শ্রমিক এলেও এখন সেই প্রবণতা কমে গেছে। অন্যদিকে যান্ত্রিক পদ্ধতির কারণে স্থানীয় শ্রমিকের সংখ্যাও কমে এসেছে।
সদর উপজেলার ইছাগড়ি গ্রামের কৃষক আবদুল কাইউম বলেন, ‘এখন মেশিন ছাড়া উপায় নেই। একটি মেশিন এক দিনে যে পরিমাণ ধান কেটে মাড়াই করতে পারে, তা ১০০ জন শ্রমিক দিয়েও সম্ভব নয়।’
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সুনামগঞ্জের ১৩৭টি হাওরে এবার ২ লাখ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে গভীর হাওরে ১ লাখ ৬৫ হাজার ২৭৫ হেক্টর এবং তুলনামূলক উঁচু এলাকায় ৫৮ হাজার ২৩৬ হেক্টর জমি রয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ১৪ লাখ মেট্রিক টন।
ধান কাটার জন্য জেলায় বর্তমানে ৫৭৭টি কম্বাইন হারভেস্টার সচল রয়েছে। এছাড়া আরও ১০৮টি মেশিন সংস্কার করে ব্যবহারের উপযোগী করা যেতে পারে। রিপার রয়েছে ১৪৬টি। প্রতি বিঘা জমির ধান কাটা ও মাড়াইয়ের জন্য হারভেস্টারের ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৯০০ টাকা।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক জানান, যেসব হাওরে পানির পরিমাণ বেশি, সেখানে মেশিন ব্যবহার কঠিন হবে। তবে ৮ থেকে ১০ ইঞ্চি পানি থাকলে কম্বাইন হারভেস্টার দিয়ে ধান কাটা সম্ভব।
