শিরোনাম
সিলেটের সাত এলাকাকে ‘পরিবেশগত সংকটপূর্ণ’ ঘোষণার প্রক্রিয়া শুরু সিলেটে পরিবহণ শ্রমিকদের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বজ্রপাতে সিলেট বিভাগে ৫ জনসহ সারাদেশে ৯ জনের মৃত্যু রূপপুরে ইতিহাসের সূচনা: প্রথম ইউনিটে ইউরেনিয়াম লোডিং মঙ্গলবার সংরক্ষিত নারী আসনে ৪৯ প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ, সিলেটের নেত্রীদেরও স্থান জঙ্গি হামলার আশঙ্কায় সিলেট ওসমানীসহ ৮ বিমানবন্দরে সর্বোচ্চ সতর্কতা সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ডা. জিয়াউর রহমান চৌধুরী সিলেটে চেকপোস্ট বসিয়ে ২ জনকে ধরলো পুলিশ: সাথে মিললো যা ওসমানী বিমানবন্দরে উচ্চমাত্রার নিরাপত্তা: হা/ম/লার আশঙ্কা সিলেটে হাম উপসর্গ নিয়ে আজও আরেক শিশুর মৃ/ত্যু

https://www.emjanews.com/

15288

tourism

প্রকাশিত

২৭ এপ্রিল ২০২৬ ২২:০৯

পর্যটন

সিলেটের সাত এলাকাকে ‘পরিবেশগত সংকটপূর্ণ’ ঘোষণার প্রক্রিয়া শুরু

পাথর-বালু উত্তোলনে কঠোর নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ

প্রকাশ: ২৭ এপ্রিল ২০২৬ ২২:০৯

ছবি: সংগৃহীত

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সাদাপাথর ও শাহ আরেফিন টিলাসহ মোট সাতটি এলাকাকে পরিবেশগত সংকটপূর্ণ এলাকা (ইসিএ) হিসেবে ঘোষণার প্রক্রিয়া শুরু করেছে সরকার। অনিয়ন্ত্রিত পাথর ও বালু উত্তোলনের ফলে পর্যটনকেন্দ্রগুলোর সৌন্দর্যহানি এবং পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি রোধে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রস্তাবিত তালিকায় থাকা অন্যান্য এলাকাগুলো হলো রতনপুর, উৎমাছড়া, লোভাছড়া, শ্রীপুর ও লালাখাল। এসব অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ পাথর উত্তোলন, নদী ও পাহাড় কাটা এবং প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার অভিযোগে আলোচনায় রয়েছে।

বিশেষ করে ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সাদাপাথর ও ধলাই নদীর উৎস মুখে ব্যাপক পাথর লুটপাটের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পরিবেশগত ভারসাম্য ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

এদিকে ২০২৫ সালের ২৪ আগস্ট হাইকোর্ট এক রুলে জাফলং, ভোলাগঞ্জ ও বিছনাকান্দিসহ সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোকে কেন ইসিএ ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়েছেন। একইসঙ্গে শাহ আরেফিন টিলার প্রায় ১৩৮ একর পাহাড় কেটে সমতল করার ফলে সেখানে বিশাল গর্ত সৃষ্টি হওয়াকেও উদ্বেগজনক হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

পরিবেশ অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় পরিচালক আবুল কালাম আজাদ জানান, একটি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান বর্তমানে প্রাকৃতিক সম্পদ মূল্যায়ন ও কারিগরি প্রতিবেদন তৈরির কাজ করছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর আনুষ্ঠানিকভাবে ইসিএ ঘোষণা করা হবে এবং সেখানে বর্জ্য নিঃসরণ, খনিজ উত্তোলন ও মাটি-পানির স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য পরিবর্তন নিষিদ্ধ থাকবে।

পরিবেশবাদী সংগঠন ‘ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা)’ সিলেট জেলা সদস্য সচিব আব্দুল করিম কিম বলেন, ইসিএ ঘোষণা কেবল কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ থাকলে সুফল মিলবে না। জাফলংয়ে আগের ঘোষণার বাস্তবায়ন নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন।

অন্যদিকে পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাস্তুতন্ত্র রক্ষায় পাথর উত্তোলনের অনুমতি দেওয়ার কোনো সুযোগ বর্তমানে নেই।

পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ অনুযায়ী, ইসিএ এলাকায় পরিবেশের ক্ষতি হয় এমন কার্যক্রম দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়। বর্তমানে দেশে ১৩টি ইসিএ রয়েছে। নতুন এই সাতটি এলাকা যুক্ত হলে সিলেট অঞ্চলের পরিবেশ সুরক্ষায় নজরদারি আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

তবে স্থানীয় পরিবেশকর্মীদের মতে, শুধু ঘোষণা নয়, কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ ও নিয়মিত তদারকিই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তা না হলে সিলেটের এই প্রাকৃতিক সম্পদ ও জৈববৈচিত্র্য চিরতরে হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।