শিরোনাম
বিশ্বজুড়ে খাদ্য সংকটের আশঙ্কা সিলেট-সুনামগঞ্জসহ ৪ জেলায় বন্যার আভাস সুনামগঞ্জের হাওরে ধান কাটা ও শুকানো নিয়ে নতুন ভোগান্তিতে কৃষক সিলেটসহ চার বিভাগে অতিভারি বৃষ্টি ও ভূমিধসের শঙ্কা ‘লন্ডনের রেস্টুরেন্টে বসে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম’ মহাসড়ক-রেললাইন-হাসপাতাল: সিলেটের উন্নয়নে মহাপরিকল্পনা প্রধানমন্ত্রীর সিলেটে আর জলাবদ্ধতা থাকবে না, হবে ঢাকা-সিলেট ডাবল রেললাইন: প্রধানমন্ত্রী সিলেটবাসীর দুর্ভোগ লাঘবে সুরমার তীরে শুরু হলো ‘মেগা প্রকল্প’ আজ সিলেট আসছেন প্রধানমন্ত্রী প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত, শিগগিরই যোগদান শুরু

https://www.emjanews.com/

15392

sylhet

প্রকাশিত

০২ মে ২০২৬ ২১:২১

সিলেট

সুনামগঞ্জের হাওরে ধান কাটা ও শুকানো নিয়ে নতুন ভোগান্তিতে কৃষক

প্রকাশ: ০২ মে ২০২৬ ২১:২১

ছবি: সংগৃহীত

সুনামগঞ্জে আবারও বৃষ্টি ও বজ্রপাত শুরু হওয়ায় হাওরের ধান কাটা, মাড়াই ও শুকানো নিয়ে নতুন করে দুর্ভোগে পড়েছেন কৃষকরা। টানা কয়েক দিনের দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার পর দুই দিনের স্বস্তি মিললেও শুক্রবার রাত থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টিতে সেই স্বস্তি বেশিক্ষণ টেকেনি।

জানা গেছে, শুক্রবার রাত থেকে শুরু হওয়া বজ্রসহ বৃষ্টি শনিবার সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। এর আগে টানা চার দিন বৈরী আবহাওয়ার পর বৃহস্পতিবার কিছুটা রোদ দেখা দিলে হাওরের কৃষকরা ধান কাটা ও মাড়াইয়ের কাজে নামেন। শুক্রবার দিনভর আকাশ মেঘলা থাকলেও বৃষ্টি হয়নি। তবে রাতে আবার বৃষ্টি শুরু হওয়ায় পরিস্থিতি বদলে যায়।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে শনিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ১২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এ সময়ে উজানের পাহাড়ি ঢল কিছুটা কম থাকায় সুরমা নদীর পানি ৩ সেন্টিমিটার কমেছে। তবে হাওরে এখনো পানি থাকায় ধান কাটার ভোগান্তি কাটেনি। রোদের অভাবে মাড়াই করা ধান শুকাতে না পেরে অনেক জায়গায় নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

পাউবোর সুনামগঞ্জ কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেন, ‘গত বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার বৃষ্টি না হওয়ায় কৃষকরা দুই দিন স্বস্তিতে কাজ করতে পেরেছেন। তবে সামনে ভারী বৃষ্টি ও বন্যার পূর্বাভাস রয়েছে। বৃষ্টি বাড়লে নদী ও হাওরের পানি আবারও বাড়তে পারে।’

কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত জেলার হাওরাঞ্চলের ৫৯ শতাংশ ধান কাটা হয়েছে। এর মধ্যে নিচু এলাকায় ৭১ শতাংশ এবং উঁচু এলাকায় ৫৮ শতাংশ ধান কাটা সম্পন্ন হয়েছে। এখন পর্যন্ত মোট ১ লাখ ৩২ হাজার ৪১৮ হেক্টর জমির ধান কাটা হয়েছে। চলতি মৌসুমে জেলার ১৩৭টি হাওরে ২ লাখ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ করা হয়।

এদিকে বৃষ্টি ও উজানের ঢলের পানিতে ১৫ হাজার ৩৫৩ হেক্টর জমির ধান তলিয়ে গেছে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ। তবে এই হিসাবের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছেন হাওর আন্দোলনের নেতারা। তাদের দাবি, বাস্তবে ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি এবং প্রায় অর্ধেক ধানই নষ্ট হয়েছে।

সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার ইছাগড়ি গ্রামের কৃষক রেদোয়ান আলী বলেন, ‘দুই দিন ভালো থাকার পর আবার বৃষ্টি শুরু হয়েছে। এতে ধান কাটা যেমন কঠিন হচ্ছে, তেমনি শুকানোও বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিচু এলাকার সব ধান পানির নিচে চলে গেছে।’

বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার কৃষ্ণনগর গ্রামের কৃষক স্বপন কুমার বর্মণ বলেন, ‘অন্তত আরও তিন-চার দিন টানা রোদ দরকার ছিল। কয়েক দিন স্তূপ করে রাখায় ধান নষ্ট হতে শুরু করেছে। এক দিনের রোদে ধান শুকানো সম্ভব নয়।’

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, বৈরী আবহাওয়ার কারণে হাওরে ধান কাটায় বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটেছে। তবে ভারী বৃষ্টি না হলে ধান কাটা কার্যক্রম চালিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।