ছবি: সংগৃহীত
রাজস্ব আদায়ের উচ্চাকাঙ্ক্ষী লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে অন্তত ৫০টি পণ্য ও সেবার ওপর ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক বাড়ানোর উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। একই সঙ্গে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ পর্যায়ে উৎসে কর বৃদ্ধি, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ভ্যাটের আওতায় আনা এবং অতি ধনীদের ওপর সম্পদ কর আরোপের পরিকল্পনাও রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বাজেটে চাল, গম, আলু, মাছ, মাংস, পেঁয়াজ, রসুন, ডাল, ভোজ্যতেল, চিনি, লবণ, আটা, ময়দা, মসলা ও বিভিন্ন নিত্যপণ্যের সরবরাহ পর্যায়ে উৎসে কর দশমিক ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১ শতাংশ করার প্রস্তাব রয়েছে। এতে বাজারে এসব পণ্যের দামে নতুন করে চাপ সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এ ছাড়া পাস্তা, ফলের রস, আইসক্রিম, কার্বনেটেড পানীয়, প্রসাধনীসামগ্রী, সিগারেট, বিড়ি, জর্দা ও গুলসহ বিভিন্ন ভোগ্যপণ্যে সম্পূরক শুল্ক বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন ভোজ্যতেল ও বীজজাত তেলের ওপরও ভ্যাট বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে।
রপ্তানি প্রণোদনা খাতেও বড় পরিবর্তনের পরিকল্পনা রয়েছে। রপ্তানি প্রণোদনার উৎসে কর ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২০ শতাংশ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। চলতি অর্থবছরে এ খাতে বরাদ্দ রয়েছে ৯ হাজার ২৫ কোটি টাকা। করহার দ্বিগুণ হলে সরকারের অতিরিক্ত প্রায় ৯০০ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের ভ্যাট নেটওয়ার্কে আনতে ‘প্যাকেজ ভ্যাট’ চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে। উপজেলা পর্যায়ের যেসব মুদি দোকানসহ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী বর্তমানে ভ্যাট নিবন্ধনের বাইরে রয়েছেন, তাদের মাসে এক হাজার টাকা বা বছরে ১২ হাজার টাকা হারে ভ্যাট দিতে হতে পারে।
এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধানমন্ত্রী।
এ ছাড়া ভ্যাট নিবন্ধন প্রক্রিয়া সহজ করতে অনলাইনে আবেদন করে টিআইএনের মতো বিআইএন গ্রহণের সুযোগ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি ব্যাংকে চলতি হিসাব খোলার ক্ষেত্রে বিআইএন বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাবও রয়েছে।
আমদানি পর্যায়ে শুল্ক কাঠামোতেও পরিবর্তন আসতে পারে। এলডিসি উত্তরণের শর্ত পূরণে কিছু পণ্যের শুল্ক কমানো হলেও ই-সিগারেট ও নিকোটিন পাউচের ওপর ধোঁয়াবিহীন তামাকজাত পণ্যের মতো কর আরোপের পরিকল্পনা করছে সরকার।
অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, এসব কর ও শুল্ক বৃদ্ধির প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বাড়তে পারে।
