https://www.emjanews.com/

15664

sylhet

প্রকাশিত

১৫ মে ২০২৬ ১৯:৪৭

সিলেট

টানা বর্ষণে বিপাকে সুনামগঞ্জের কৃষক, ধান ঘরে তোলা নিয়ে অনিশ্চয়তা

প্রকাশ: ১৫ মে ২০২৬ ১৯:৪৭

ছবি: সংগৃহীত

টানা বৃষ্টিতে আবারও বাড়তে শুরু করেছে সুনামগঞ্জের নদ-নদী ও হাওরের পানি। এতে নতুন করে বিপাকে পড়েছেন হাওরাঞ্চলের কৃষকেরা। অবশিষ্ট বোরো ধান কাটা, মাড়াই ও শুকানো নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে তাদের মধ্যে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর ও পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, আগামী কয়েক দিনও ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। একই সঙ্গে ভারতের চেরাপুঞ্জিতেও বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকায় উজান থেকে পাহাড়ি ঢল নেমে পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

পাউবোর তথ্য অনুযায়ী, সুনামগঞ্জে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে শুক্রবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ১১৫ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। এর আগে মঙ্গলবার জেলায় ১০৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছিল। ফলে গত তিন দিনে জেলায় মোট ২৪২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।

এ সময় সুরমা নদীর পানি ১৩ সেন্টিমিটার বেড়েছে। শুক্রবার সকাল ৯টায় নদীর পানি বিপৎসীমার ১ দশমিক ৭২ মিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। প্রাক-বর্ষা মৌসুমে সুরমা নদীর বিপৎসীমা ৬ দশমিক ৫ মিটার।

সুনামগঞ্জ পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেন, ‘সুনামগঞ্জ ও উজানে চেরাপুঞ্জিতে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। এতে নদী ও হাওরের পানি আরও বাড়তে পারে। কৃষকের ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা থাকলেও আপাতত বন্যা পরিস্থিতির শঙ্কা নেই।’

হাওরাঞ্চলের কৃষকেরা জানান, বৈশাখের শুরু থেকেই বৃষ্টির কারণে ধান ঘরে তুলতে দুর্ভোগে পড়েছেন তারা। মাঝে এক-দুই দিন রোদ মিললেও আবার বৃষ্টি শুরু হওয়ায় ধান শুকানো সম্ভব হচ্ছে না। অনেক এলাকায় কাটা ধান এখনো খেতেই পড়ে আছে।

জামালগঞ্জ উপজেলার ভীমখালী ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর গ্রামের কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘গত বুধবার পর্যন্ত টানা কয়েক দিন রোদ থাকায় কিছুটা স্বস্তি পেয়েছিলাম। কিন্তু বৃহস্পতিবার থেকে আবার দিন-রাত বৃষ্টি শুরু হয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে বাকি ধান ঘরে তোলা সম্ভব হবে না, অনেক ধান নষ্ট হয়ে যাবে।’

জেলার হাওর বাঁচাও আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক বিজন সেন রায় বলেন, ‘এ বছর দুর্যোগ যেন কৃষকদের পিছু ছাড়ছে না। এক দিন আবহাওয়া ভালো থাকলে পরের দুই দিনই বৃষ্টি হচ্ছে। অন্তত এক সপ্তাহ টানা রোদ থাকলে কৃষকেরা অবশিষ্ট ধান তুলতে পারতেন।’

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সুনামগঞ্জের ১৩৭টি ছোট-বড় হাওরে এবার ২ লাখ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল প্রায় ১৪ লাখ টন ধান।

এ পর্যন্ত জেলায় গড়ে ৮৭ দশমিক ৪০ শতাংশ ধান কাটা হয়েছে। মোট ১ লাখ ৯৪ হাজার ৭৬৮ হেক্টর জমির ধান কাটা হয়েছে। এর মধ্যে হাওরাঞ্চলে কাটা হয়েছে ১ লাখ ৪৮ হাজার ২৩১ হেক্টর জমির ধান। অর্থাৎ এখনো প্রায় ১৩ শতাংশ ধান কাটার বাকি রয়েছে।

কৃষি বিভাগের ১০ দিন আগের হিসাব অনুযায়ী, অতিবৃষ্টি ও উজানের ঢলে সুনামগঞ্জে ২০ হাজার ৫৫০ হেক্টর জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ৫০০ কোটি টাকার বেশি। তবে এরপর ক্ষয়ক্ষতির হিসাব আর হালনাগাদ করা হয়নি। স্থানীয় কৃষক ও কৃষিসংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, ‘এখনো চূড়ান্ত ক্ষয়ক্ষতির হিসাব নির্ধারণ করা হয়নি। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।’

উল্লেখ্য, চলতি মৌসুমে মার্চের মাঝামাঝি থেকেই সুনামগঞ্জে বৃষ্টি শুরু হয়। পরে ২৬ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া অতিভারী বৃষ্টি ও উজানের পাহাড়ি ঢলে জেলার প্রায় সব হাওরেই বোরো ধান তলিয়ে যায়। এতে কৃষকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও হতাশা বিরাজ করছে।