https://www.emjanews.com/

15702

sylhet

প্রকাশিত

১৬ মে ২০২৬ ২০:৫৬

সিলেট

ছাতকে স্বেচ্ছাসেবক লীগ সহ-সভাপতির কাণ্ড!

প্রকাশ: ১৬ মে ২০২৬ ২০:৫৬

ছবি: সংগৃহীত

সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলায় স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি আবুল কাশেম হারুনের বিরুদ্ধে এক অসহায় বিধবা নারীকে কুপ্রস্তাব, শারীরিক নির্যাতন, হত্যার হুমকি এবং বিদ্যুৎ–পানি বিচ্ছিন্ন করে মানবেতর অবস্থায় রাখার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

‘লাল টেলিফোনে’ তদন্ত স্থগিত- এমন অভিযোগ ভুক্তভোগীর স্থানীয়ভাবে অভিযোগ উঠেছে- ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে সিলেটের এক প্রভাবশালী মন্ত্রীর ‘লাল টেলিফোন’ হস্তক্ষেপের কারণে থানা পুলিশ তদন্ত স্থগিত রেখেছে। ফলে দুই মাস পার হলেও ভুক্তভোগী বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ।

ভুক্তভোগী জেসমিন আক্তার জানান, গত ৯ মার্চ তিনি ছাতক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং থানা পুলিশের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগে আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়- আবুল কাশেম হারুনকে প্রধান করে, নিলয় ও মনি বেগমসহ ৩ জন‌কে আসামি করা হয়েছে। কিন্তু অভিযোগ দাখিলের দুই মাস পরেও পুলিশ কোনো তদন্ত শুরু করেনি বলে দাবি করেন তিনি।

লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের ১১ মে, ২৫ ডিসেম্বর, এবং ২০২৬ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি, ১৯ ফেব্রুয়ারি ও ৯ মার্চ- বিভিন্ন সময়ে আবুল কাশেম হারুন নিজের ছোটো চাচি জেসমিন আক্তারের ঘরে প্রবেশ করে তার গায়ে জোরপূর্বক হাত দেন এবং অনৈতিক কুপ্রস্তাব দেন। তার কথা ম‌তো প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তাকে— শারীরিকভাবে নির্যাতন, ভয়ভীতি প্রদর্শন, ‘গুম করে ফেলবো’ ‘হত্যা করবো’ ‘পতিতালয়ে বিক্রি করে দেবো’—এমন নৃশংস হুমকি দিতে থাকেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

জেসমিন আক্তার অভিযোগ করেন, তার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের পর প্রতিশোধ হিসেবে—তার ঘরের বিদ্যুৎ লাইন কেটে দেওয়া হয়, পানির সংযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়, এবং তাকে ঘরে অবরুদ্ধ মানবেতর পরিস্থিতিতে থাকতে বাধ্য করা হয়।

ভুক্তভোগী জানান, তিনি প্রয়াত আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্ব শাহ মো. লিয়াকত আলী খান–এর স্ত্রী। তার স্বামী ২০২৫ সালের ১১ মে মারা যাওয়ার মাত্র ৪০ দিনের মধ্যেই, কোনো পুরুষ অভিভাবক না থাকার সুযোগে ভাতিজা হারুনের কুদৃষ্টি পড়ে তার ওপর। এরপর থেকেই শুরু হয় নানামুখী অত্যাচার।

তিনি আরও বলেন, গ্রামবাসী বা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে বিচার চাইতেও গেলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়, তাকে আরও হুমকির মুখে পড়তে হয়।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত আবুল কাশেম হারুনের ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ থাকায় কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

গীতিকার–কবি মনির উদ্দিন নূরী অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “এ ঘটনার বিষয়ে সিলেটের মন্ত্রী আরিফুর রহমান চৌধুরীর লাল টেলিফোনে বিশেষ ‘হস্তক্ষেপ’ হওয়ায় মামলা ও তদন্ত ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে।” তিনি প্রশাসনের প্রতি বিষয়টি স্বচ্ছভাবে তদন্তের আহ্বান জানান।

একাধিক নোটিশেও আসামি অনুপস্থিত এ বিষয়ে ছৈলা আফজলাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আজাদ মিয়া জানান, ‘ইউএনও মহোদয়ের নির্দেশে ২ মে আসামিদের ইউনিয়ন পরিষদে হাজির হওয়ার জন্য একাধিক নোটিশ দেওয়া হয়। কিন্তু প্রধান আসামি কোনো নোটিশেই উপস্থিত হননি। বিষয়টি আমরা থানায় অবগত করেছি।’

বর্তমান অবস্থা ভুক্তভোগী জেসমিন আক্তার এখনো বিদ্যুৎ–পানিহীন অমানবিক পরিস্থিতিতে বসবাস করছেন বলে জানানো হয়েছে। তিনি প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের কাছে ন্যায়বিচারের আকুতি জানিয়েছেন।

এ ব‌্যাপা‌রে ও‌সি মিজানুর রহমান জানান, গত ১৮ ফেরুয়া‌রি জেসমিন আক্তার বাদী হ‌য়ে থানায় লি‌খিত অ‌ভি‌যোগ দা‌য়ের করেন। তি‌নি ব‌লেন, বাদীনীর অ‌ভি‌যো‌গের খোঁজ খবর নি‌য়ে তদন্তপূর্বক আইনানুগত ব‌্যবস্থা নেওয়া হ‌বে ।