https://www.emjanews.com/

15847

international

প্রকাশিত

২২ মে ২০২৬ ২০:৩০

আন্তর্জাতিক

আফগানিস্তানে বাল্যবিয়েকে আইনি স্বীকৃতির পথে তালেবান

প্রকাশ: ২২ মে ২০২৬ ২০:৩০

ছবি: সংগৃহীত

আফগানিস্তানে প্রথমবারের মতো বাল্যবিয়েকে আইনি স্বীকৃতি দেওয়ার পথে এগোচ্ছে তালেবান সরকার। মানবাধিকার কর্মীদের ভাষ্য, গত সপ্তাহে অনুমোদিত নতুন বিবাহবিচ্ছেদ আইন কার্যকর হলে কোনো নারী বা তরুণীর পক্ষে স্বামীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে ডিভোর্স নেওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে।

অধিকারকর্মীরা তালেবানের এই পদক্ষেপকে আফগান নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে “নিয়মতান্ত্রিক সহিংসতা” হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।

আফগানিস্তানে জোরপূর্বক ও অপ্রাপ্তবয়স্কদের বিয়ের নির্ভরযোগ্য সরকারি পরিসংখ্যান না থাকলেও আন্দোলনকারীরা বলছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এ প্রবণতা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে ১১ বছরের বেশি বয়সী মেয়েদের শিক্ষার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়েছে।

একটি বেসরকারি খসড়া সমীক্ষার তথ্য অনুযায়ী, শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হওয়ার পর দেশটির প্রায় ৭০ শতাংশ মেয়েকে কম বয়সে বা জোরপূর্বক বিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৬৬ শতাংশের বয়স ১৮ বছরের নিচে।

নতুন আইনের ফলে কোনো মেয়ে যদি দাবি করে যে তাকে জোর করে বিয়ে দেওয়া হয়েছে, তবুও স্বামীর সম্মতি ছাড়া সে আইনি বিচ্ছেদ পাবে না। এমনকি স্বামী নিখোঁজ থাকলেও বা ভরণপোষণ না দিলেও একজন নারী এককভাবে ডিভোর্স চাইতে পারবেন না বলে অভিযোগ উঠেছে।

এই বিতর্কিত আইনের বিরুদ্ধে রাজধানী কাবুল-এ নারী অধিকারকর্মীরা বিক্ষোভ করেছেন। আন্দোলনকারী ফাতেমা বলেন, ‘নারীবিরোধী শত শত ডিক্রির পর তালেবান এখন বাল্যবিয়েকে আনুষ্ঠানিক আইনি কাঠামোর মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার চেষ্টা করছে।’

তিনি অভিযোগ করেন, নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার পরিবর্তে তালেবান সরকার নারীদের স্বাধীনতা দমনে ব্যস্ত।

এদিকে আফগানিস্তানে জাতিসংঘের সহায়তা মিশন ইউনামা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছে, এই ডিক্রি আফগান নারী ও মেয়েদের অধিকার হরণের আরও একটি বড় ধাপ এবং এটি আইনের মাধ্যমে নারীদের ওপর প্রাতিষ্ঠানিক বৈষম্যকে পাকাপোক্ত করছে।

তবে আন্তর্জাতিক মহল ও দেশের ভেতরের সমালোচনা প্রত্যাখ্যান করেছে তালেবান সরকার। তালেবান নিয়ন্ত্রিত রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সরকারের এক মুখপাত্র বলেন, ‘যারা ইসলামের বিরোধিতা করে এবং ইসলামিক ব্যবস্থার শত্রু, তাদের বিক্ষোভে গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন নেই।’

মানবাধিকার সংস্থা আফগানিস্তান হিউম্যান রাইটস সেন্টার-এর সাম্প্রতিক গবেষণায় বলা হয়েছে, বাল্যবিয়ের শিকার অধিকাংশ মেয়েই চরম পারিবারিক সহিংসতা ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছে।

সম্প্রতি আফগানিস্তানের দাইকুন্দি প্রদেশ-এ ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরী স্বামীর নির্যাতনে মারা যায়। তার পরিবারের দাবি, বিয়ের মাত্র দুই মাস পর থেকেই নির্যাতন শুরু হয় এবং স্থানীয় সালিশের মাধ্যমে বারবার তাকে স্বামীর বাড়িতে ফিরে যেতে বাধ্য করা হয়।

আফগানিস্তান ইন্ডিপেন্ডেন্ট হিউম্যান রাইটস কমিশন-এর কর্মকর্তা আব্দুল আহাদ ফারজাম বলেন, ‘তালেবানের নতুন সংহিতা বাল্যবিয়েকে বৈধতা দিচ্ছে এবং বিয়েতে নারীর স্বাধীন সম্মতির অধিকার কেড়ে নিচ্ছে। এটি পুরুষতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করছে।’