https://www.emjanews.com/

16005

sylhet

প্রকাশিত

০১ জুন ২০২৬ ২০:৫৫

সিলেট

সিলেটের পর্যটন স্পটে বাড়ছে পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঘটনা, উদ্বেগ বাড়ছে নিরাপত্তা নিয়ে

প্রকাশ: ০১ জুন ২০২৬ ২০:৫৫

ছবি: ইমজা নিউজ

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপরূপ লীলাভূমি সিলেট। জাফলং, বিছনাকান্দি, রাতারগুল, লালাখাল কিংবা সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওর; প্রতিদিনই এসব পর্যটন কেন্দ্রে ভিড় করছেন হাজারো দর্শনার্থী। তবে আনন্দময় ভ্রমণ অনেক ক্ষেত্রেই পরিণত হচ্ছে শোকের ঘটনায়। সাম্প্রতিক সময়ে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন পর্যটন এলাকায় পানিতে ডুবে পর্যটকদের মৃত্যুর ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা, সতর্কতামূলক নির্দেশনা এবং পর্যটকদের অসচেতনতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

সর্বশেষ সোমবার (১ জুন) বিকেলে সিলেটের জাফলং পর্যটন কেন্দ্রের জিরো পয়েন্ট এলাকায় পিয়াইন নদীতে গোসল করতে নেমে পানিতে ডুবে মারা যান চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার ফতেহাবাদ গ্রামের বাসিন্দা ইমতিয়াজ হোসেন রাহি (১৬)।

ঈদের ছুটি উপলক্ষে ১২ সদস্যের একটি দলের সঙ্গে সিলেট ভ্রমণে এসে জাফলংয়ে বেড়াতে যান তিনি। একপর্যায়ে পিয়াইন নদীতে গোসল করতে নেমে স্রোতের টানে গভীর পানিতে তলিয়ে যান। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় পুলিশ ও উদ্ধারকর্মীরা অভিযান চালিয়ে প্রায় দুই ঘণ্টা পর তার মরদেহ উদ্ধার করে।

এর আগে গত শনিবার সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওরে ভ্রমণ শেষে ফেরার পথে পাঠলাই নদীতে পড়ে নিখোঁজ হন তামিম আহমদ নামে এক পর্যটক। তিনি ধর্মপাশা উপজেলার গলোয় গ্রামের বাসিন্দা। হাউজবোট থেকে নদীতে পড়ে যাওয়ার পর তাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। পরে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

টাঙ্গুয়ার হাওরে প্রতিবছর হাজার হাজার পর্যটক ভিড় করলেও অধিকাংশ নৌযানে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা সরঞ্জাম, বিশেষ করে লাইফ জ্যাকেট ব্যবহারে অনীহা দেখা যায় বলে অভিযোগ রয়েছে।

গত ১৫ মে গোয়াইনঘাট উপজেলার বিছনাকান্দি পর্যটন এলাকায় গোসল করতে নেমে পানিতে ডুবে নিখোঁজ হন এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র ছিলেন।

স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায়ী ও সচেতন নাগরিকরা বলছেন, পর্যটকের সংখ্যা বাড়লেও নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন সে হারে হয়নি। অনেক স্থানে সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড থাকলেও তা উপেক্ষা করেন দর্শনার্থীরা। আবার কোথাও কোথাও পর্যাপ্ত নজরদারির অভাব রয়েছে।

তাদের মতে, জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে স্থায়ী উদ্ধারকর্মী নিয়োগ, পর্যাপ্ত লাইফ জ্যাকেটের ব্যবস্থা, ঝুঁকিপূর্ণ স্থান চিহ্নিতকরণ এবং মাইকিংয়ের মাধ্যমে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।