হবিগঞ্জে এসএসসি পরীক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগ, চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু
প্রকাশ: ০১ জুন ২০২৬ ২৩:৩৪
ছবি: ইমজা নিউজ
এসএসসি পরিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগ, চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু। হবিগঞ্জে এক এসএসসি পরীক্ষার্থীর মৃত্যুকে ঘিরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তাকে ধর্ষণের পর নির্যাতন চালানো হয়েছে। পরে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
চিকিৎসক ও পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে। মাত্র মাসখানেক আগে এসএসসি পরীক্ষা শেষ করেছে নদী দাস। এখনও বাকি ছিল ব্যবহারিক পরীক্ষা। স্বপ্ন ছিল লেখাপড়া শেষ করে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর। কিন্তু সেই স্বপ্ন থেমে গেল অকাল মৃত্যুর মধ্য দিয়ে।
রোববার রাতে হবিগঞ্জ শহরের উমেদনগর বাণিজ্যিক এলাকার সড়কের পাশ থেকে অচেতন ও রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয়। পরে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সোমবার ভোরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
পরিবারের অভিযোগ, মৃত্যুর আগে ধর্ষণের শিকার হয়েছিল সে। পরিবারের অভিযোগ, বানিয়াচং উপজেলার সুনারু গ্রামের বাসিন্দা ও পেশায় আইনজীবী সহকারী দিলিপ দাসের সঙ্গে নদীর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। কিছুদিন আগে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে তাকে হবিগঞ্জ শহরের ইসকন মন্দিরে নিয়ে যান দিলিপ। তবে নদী অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় মন্দির কর্তৃপক্ষ বিয়ে সম্পন্ন না করে তাকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেয়।
স্বজনদের দাবি, রোববার সকালে সকলের অগোচরে আবারও নদীকে বাড়ি থেকে নিয়ে যান দিলিপ। এরপর রাত ৮টার দিকে হবিগঞ্জ শহরের উমেদগর বাণিজ্যিক এলাকার সড়কের পাশে অচেতন অবস্থায় তাকে পাওয়া যায়। এ সময় তার মুখে আঘাতের চিহ্ন ছিল বলেও দাবি পরিবারের। পরে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক আমিনুল ইসলাম সরকার জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে। তবে ময়নাতদন্তের পর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।
পুলিশ জানিয়েছে, ধর্ষণ, আত্মহত্যা কিংবা অন্য কোনো কারণ সব দিক বিবেচনায় নিয়ে ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে।
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সুষ্ঠু তদন্ত করে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
