সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে মিতা বেগম হত্যা মামলার এক পলাতক আসামিকে সিলেট থেকে আটক করেছে বলে জানিয়েছে র্যাব-৯।
র্যাব-৯ জানায়, গত শুক্রবার (২৯ মে) সন্ধ্যার দিকে দিরাই থানাধীন বাগবাড়ি এলাকার বাসিন্দা মিতা বেগমের ফুপাতো ভাই উজ্জল মিয়া তার পাওনা ৭ হাজার ৫০০ টাকা চাইতে গেলে অলি মিয়ার সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে সেখানে উপস্থিত অন্যরা মিলেও উজ্জল মিয়াকে লাঠিসোটা দিয়ে মারধর করে গুরুতর আহত করে। তার চিৎকার শুনে মিতা বেগম ও তার মা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে বাড়িতে পাঠান।
এর কিছুক্ষণ পর আবারও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, ওই সময় মিতা বেগমকে এলোপাতাড়ি মারধর করে চুল ধরে টেনে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। একপর্যায়ে টিটু মিয়া হাতে থাকা গাছের ডাল দিয়ে তার মাথায় আঘাত করলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে গুরুতর অবস্থায় তাকে প্রথমে দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং সেখান থেকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে শনিবার (৩০ মে) রাত আনুমানিক ১২টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় মিতা বেগমের মা বাদী হয়ে দিরাই থানায় হত্যা মামলা করেন। এরপর আসামিদের আইনের আওতায় আনতে র্যাব-৯ ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করে।
এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার (৩ জুন) রাত আনুমানিক ১টা ৫ মিনিটে সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ থানার ঢোলাখাল শিমুলতলা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার এজাহারভুক্ত ৪ নম্বর পলাতক আসামি খাদিজা বেগম (২৩), দিরাই উপজেলার নতুন বাগবাড়ী এলাকার টিটু মিয়ার স্ত্রীকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব।
আটককৃত আসামিকে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। মামলার অন্যান্য আসামিদের আটকে র্যাবের অভিযান ও গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।
