মাধবপুরে শালিসে ভিডিও ধারণকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের সংঘর্ষ, আহত অর্ধশতাধিক শতাধিক
১১রাউন্ড টিয়ার সেল নিক্ষেপ,আটক ৪
প্রকাশ: ০৩ জুন ২০২৬ ১৮:০২
ছবি: সংগৃহীত
হবিগঞ্জের মাধবপুরে খড়কি গ্রামে শালিস বিচারে ভিডিও ধারণকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের মধ্যে দু’দিনে কয়েক দফা কয়েক দফা রক্তক্ষয়ি সংঘর্ষে মহিলাসহ কমপক্ষে অর্ধশতাধিক লোক আহত হয়েছে। আহতদের মাধবপুর, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মনবাড়ীয়া ও সিলেট উসমানি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি ও চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। পুলিশ ১১ রাউন্ড কাঁদানো গ্যাস নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় পুলিশ ৪ জনকে আটক করেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাধবপুর উপজেলার জগদিশপুর ইউনিয়নের খড়কি গ্রামের কারী কালা মিয়ার ছেলে আহম্মদের মালিকানাধীন ঢাকার একটি ফার্নিচার দোকান থেকে ঈদের আগে মুর্শেদ কামালের ছেলে তোফাজ্জল (৩৫) কিছু টাকা নিয়ে যান। পরে ওই টাকা লেনদেনকে কেন্দ্র করে উভয়ের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়।
ওই বিরোধ মীমাংসার লক্ষ্যে মঙ্গলবার (২ জুন) সন্ধ্যায় খড়কী গ্রামে এক নালিশি বিচার বৈঠক বসে। বিচার চলাকালে এক পক্ষ মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ শুরু করলে অপরপক্ষ এতে বাধা দেয়। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক ও কথা কাটাকাটির সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়।
সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত পক্ষে ৫০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
খবর পেয়ে মাধবপুর থানার ওসি (তদন্ত) মোঃ গোলাম মোস্তফা বিপুল সংখ্যক পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌছে টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে রাত ১০টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এবং উভয় পক্ষের লোকজনকে শান্ত থাকার নিদের্শ দেন।
কিন্তু পরদিন ( বুধবার) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আবারও দু’পক্ষ দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।
খবর পেয়ে মাধবপুর থানা, ছাতিয়াইন তদন্ত কেন্দ্র ও তেলিয়াপাড়া পুলিশ ফাঁড়ির বিপুল সংঘর্ষ পলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে ১১ রাউন্ড টিয়ারসেল নিক্ষেপ করলে বিকাল ৩টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
এ ঘটনায় খড়কী গ্রামের ৪ দাঙ্গাবাজকে আটক করেছে। সংর্ঘষের ঘটনায় মহিলা ও শিশুসহ ৬০জন আহত হয়েছে। আহতদের আহতদের মাধবপুর, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মনবাড়ীয়া ও সিলেট ওসমানি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি ও চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।
মাধবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা বলেন, ‘টাকা-পয়সা সংক্রান্ত পূর্ব বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।’
