শিরোনাম
চলতি বছর হচ্ছে না তিন স্তরের নির্বাচন, শেষ দিকে শুরু হতে পারে ইউপি ভোট সিলেটে ভারি বর্ষণের আভাস, কমবে তাপপ্রবাহ জেনেভায় শ্রম সম্মেলনে মন্ত্রী আরিফুল হকের সভাপতিত্ব ডেঙ্গুমুক্ত সিলেট গড়ে তুলতে চাই: সিসিক প্রশাসক কাইয়ুম চৌধুরী আ.লীগের নেতাকর্মীদের জন্য খুলছে নতুন পথ, কী শর্ত দিল সরকার? সিলেটে হঠাৎ চিরুনি অভিযানে পুলিশ: ৪ ঘন্টায় আ/টক ১১০ জন সিলেটসহ আট জেলায় ঝড়-বৃষ্টির সতর্কতা রপ্তানি বাড়াতে চামড়া শিল্পে ২৩ উদ্যোগ নিয়েছে সরকার: সংসদে বাণিজ্যমন্ত্রী ৪,৮০০ ‘অবৈধ অভিবাসীকে’ বাংলাদেশে ফেরত, হোল্ডিং সেন্টারে আরও ৮৩৬ জন: পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী  ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা, শিশুসহ নিহ.ত ৪, আহ.ত অন্তত ৪০

https://www.emjanews.com/

16244

opinion

প্রকাশিত

০৯ জুন ২০২৬ ১৭:৪৬

আপডেট

০৯ জুন ২০২৬ ১৭:৪৭

মতামত

মেসি অধ্যবসায়, নীরবতা, প্রতিভা এবং স্বপ্নপূরণের এক জীবন্ত প্রতীক

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬ ১৭:৪৬

ফুটবলকে ভালোবাসার গল্প সবার এক রকম হয় না। কেউ কোনো কিংবদন্তি খেলোয়াড়কে দেখে, কেউ কোনো ঐতিহাসিক জয় দেখে, আবার কেউ পারিবারিক ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় একটি দলের সমর্থক হয়ে ওঠে। আমার ক্ষেত্রে একটু ভিন্ন, বরং পরিবারের মা ও ভাই ব্রাজিল সমর্থক, আর বাবা কীসের সমর্থক তা নিশ্চিত করে বলা কঠিন।

আমি যখন খেলাধুলার কিছুই বুঝতাম না, অফসাইড কী, ফর্মেশন কী, কিংবা বিশ্বকাপের গুরুত্ব, এসবের কোনো ধারণা ছিল না, তখনই আমি একটি দলকে বেছে নিয়েছিলাম। কারণটা ছিল খুবই সাধারণ, তাদের পতাকার রং। আকাশি-সাদা রঙের সেই পতাকাটি আমার চোখে অন্যরকম লাগত। নীল ছিল আমার প্রিয় রং। আর সেই ভালো লাগা থেকে অজান্তেই সমর্থন শুরু হয়েছিল আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দলকে।

কিন্তু সময়ের সাথে বুঝলাম, এটি শুধু একটি রঙের প্রতি আকর্ষণ ছিল না। মাঠে তাদের খেলা, বলের প্রতি নিয়ন্ত্রণ, আর অসাধারণ দলগত সমন্বয় আমাকে বারবার মুগ্ধ করেছে। মাঠে নামা প্রতিটি খেলোয়াড়ের মধ্যেই ছিল এক বিস্ফোরণক্ষমতা। গত বিশ্বকাপে যেমন এমিলিয়ানো মার্টিনেজ একের পর এক অবিশ্বাস্য মুহূর্ত উপহার দিয়েছিল, তেমনি দলের অন্য খেলোয়াড়রাও নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী বারবার চমকে দিয়েছে। সবকিছুর পরে উপলব্ধি করলাম, আমি আর শুধু সমর্থক নই, এই দলের সঙ্গে আমার আবেগের এক গভীর সম্পর্ক তৈরি হয়ে গেছে।

আর কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন সেই মানুষ, লিওনেল মেসি। মেসি আমার কাছে শুধুই একজন ফুটবলার নন, তিনি অধ্যবসায়, নীরবতা, প্রতিভা এবং স্বপ্নপূরণের এক জীবন্ত প্রতীক। ছোটবেলায় যখন আমি শিল্পকলায় যেতাম, তখন মাঝেমধ্যেই তাঁর ছবি আঁকতাম। সহপাঠীদের মধ্যে তা নিয়ে বেশ আলোচনা হতো। কেউ প্রশংসা করত, কেউ মজা করত, কিন্তু আমার কাছে সেটি ছিল নিজের ভালোবাসাকে প্রকাশ করার এক ছোট্ট চেষ্টা। সাথে জার্সি ছাড়া খেলা দেখা অসম্ভব, এবং জার্সি জমানো, এসব ছিল তীব্র নেশা।

সময়ের স্রোতে অনেক কিছু বদলেছে। কিন্তু আর্জেন্টিনার প্রতি ভালোবাসা আর মেসির প্রতি মুগ্ধতা কখনো কমেনি।

আজও মনে পড়ে সেই ফাইনালের রাত। আমি তখন হোস্টেলে থাকি। চারপাশে টানটান উত্তেজনা, কেউ চিৎকার করছে, কেউ আবার উদ্বেগে স্থির হয়ে বসে আছে। প্রতিটি মুহূর্ত যেন হৃদস্পন্দনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগোচ্ছিল।

ম্যাচ যত এগোচ্ছিল, উত্তেজনাও তত বাড়ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত যখন বিজয়ের হাসি ফুটল, তখন মনে হয়েছিল বহু বছরের অপেক্ষা, বিশ্বাস আর আবেগ এক মুহূর্তে পূর্ণতা পেল।

সেদিনের উল্লাস ছিল শুধু একটি ম্যাচ জয়ের আনন্দ নয়, ছিল শৈশবের একটি পছন্দকে সঠিক প্রমাণিত হতে দেখার আনন্দ, ছিল একজন প্রিয় খেলোয়াড়ের স্বপ্নপূরণের সাক্ষী হওয়ার আনন্দ। আর ছিল সেই আকাশি-সাদা পতাকার প্রতি অটুট ভালোবাসার এক মহিমান্বিত উদযাপন।

এ যেন “প্রথম ধারণাই শেষ ধারণা” বাক্যটিকে চিরন্তন সত্য করে দিল। কিছু সমর্থন যুক্তি দিয়ে শুরু হয়, কিছু ইতিহাস দিয়ে। আমার সমর্থন শুরু হয়েছিল একটি রং দিয়ে। কিন্তু আজ তা পরিণত হয়েছে স্মৃতি, আবেগ, ভালোবাসা আর গর্বের এক অনন্ত গল্পে।

 

- সুদীপ্তা পাল, একজন ফুটবল প্রেমী