https://www.emjanews.com/

16306

surplus

প্রকাশিত

১১ জুন ২০২৬ ২৩:৩০

অন্যান্য

চিকিৎসাসেবা না পাওয়ার অভিযোগ, ক্ষোভ প্রকাশ করে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিলেন সাংবাদিক

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬ ২৩:৩০

ছবি: সংগৃহীত

সিলেটের একটি বেসরকারি হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা ও চিকিৎসকের আচরণ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে প্রতিষ্ঠানটির চিকিৎসাসেবা বয়কটের ঘোষণা দিয়েছেন সাংবাদিক ফয়সল আলম। তিনি দৈনিক শুভ প্রতিদিনের নির্বাহী সম্পাদক এবং সিলেট প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাতে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এ ঘোষণা দেন। স্ট্যাটাসে তিনি দাবি করেন, ইবনে সিনা হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে প্রত্যাশিত সেবা না পাওয়ার পাশাপাশি একজন চিকিৎসকের কাছ থেকে দুর্ব্যবহারের শিকার হয়েছেন।
ফয়সল আলম তার পোস্টে উল্লেখ করেন, বিষয়টি নিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করলেও তিনি কোনো সন্তোষজনক সমাধান পাননি। বরং ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা না করে বিষয়টি চাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ ঘটনায় মানসিকভাবে কষ্ট পেয়েই তিনি হাসপাতালটির চিকিৎসাসেবা বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে স্ট্যাটাসে উল্লেখ করেন।
ফেসবুক পোস্টটি প্রকাশের পর সাংবাদিক মহল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই রোগীদের সঙ্গে চিকিৎসক ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আচরণে আরও দায়িত্বশীলতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেছেন।

ফয়সল আলমের স্টেটাসটি পুরোপুরি পাঠকদের জন্য তোলে ধরা হলো-
‘আজ থেকে ইবনে সিনার সেবা বর্জন করলাম
শরীরটা বেশ ক মাস থেকে ভালো যাচ্ছিল না। ‘কষ্টমষ্ট’ করে ইবনে সিনা হাসপাতালের চিকিৎসক (নিউরো মেডিসিন) জনাব আওলাদ হোসেন সাহেবের স্মরণাপন্ন হলাম। যথযথ নিয়ম মেনে টিকেট করে ফি দিয়ে গত ১৭ মে রিকাবীবাজার শাখার পাঁচতলায় তার চেম্বারে যাই। তিনি সকালে রাগীব রাবেয়ায়, বেলা ২ টা থেকে ৫ টা পর্যন্ত ইবনে সিনার রিকাবীবাজার শাখায় এবং বিকেল ৫ টার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ইবনে সিনার সোবহানীঘাট ব্রাঞ্চে রোগী দেখেন। বহু কষ্ট করে মহাব্যস্ত ডাক্তার সাহেবকে দেখাই। তিনি দেখেই আমাকে একখানা প্রেসক্রিপশন হাতে ধরিয়ে দেন। পরীক্ষা নিরিক্ষা করার জন্য পাঁচ হাজার টাকার টেস্ট দিলেন। সেগুলো পরীক্ষার জন্য দিয়ে আসি। পরীক্ষার রিপোর্ট পাবার আগেই প্রথম দিনেই ডাক্তার সাহেব বললেন ওষুধ আজ থেকেই খাওয়া শুরু করেন। আমি বুঝে ওষুধ দিয়েছি। পরীক্ষার রিপোর্ট পরে নিয়ে আইসেন। 
ডাক্তার সাহেবের কথামতো ওষুধ সেবন শুরু করলাম। ওষুধ খাবার তিনদিন পর থেকেই আমার ডান হাতে কাপন শুরু করে। ঘুম থেকে উঠার সময় প্রতিদিনি হাত কাপে। পরদিন থেকে দুই পা দিয়ে হাঁটতে কষ্ট হয়। শুধুই পেছন দিকে টানে। পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ায় কোমরের অংশে কাপ শুরু হয়। তখন তার ওষুধ বন্ধ করে কিছু সুস্থ হয়ে রিপোর্ট নিয়ে তার কাছে যেতে একটু দেরী হয়ে যায়। 
আজ বৃহস্পতিবার স্ত্রী সন্তানদের পিড়াপীড়িতে গেলাম তার চেম্বারে আমার দু:খের কাহিনী শোনাতে। 
রুমে ঢুকার আগে আমার শারীরিক অবস্থা দেখে অনেকে আমাকে বারবার বসার অনুরোধ করেন। কিন্তু ডাক্তার সাহেবের চেম্বারে ঢুকে বসতে চাইলে উনি বলেন আপনি বসবেন না। উনাকে (অন্য রোগীকে) বসতে দেন। আপনি এমনিতেই দেরী করে আসছেন। তবু রিপোর্টটা দেখছি। এখানে দাঁড়ান। বললেন আপনার কোনো কথা শুনতে পারবো না। আবার টিকিট করে নিয়ে আসবেন। তখন সব বলতে পারবেন। তখন আমি বললাম আমি যে কারণে আসতে পারিনি, ওষুধগুলো খাবার পর আমার কিছু সমস্যা হয়েছে। প্লিজ আমাকে একটু কনসিডার করেন, কথাগুলো শোনেন। তখন চারজন মহিলার সামনে তিনি বলেন ‘নো চান্স, কোনো কথা নয়। তখন আমি বললাম আমার কাগজগুলো দিয়ে দেন, আপনার মতো অমানবিক চিকিৎসকের কাছে আমার চিকিৎসা করানোর কোনো দরকার নেই। তখন সেখানে থাকা আমার পরচিতি কিছু লোক আমাকে নিয়ে আবার চেম্বারে যেতে চান। আমি না করে বেরিয়ে আসি। তখন সেখানকার পরিবেশ দেখে দু তলা থেকে কাস্টমার কেয়ারের একজন ভদ্রলোক এসে আমাকে ধরাধরি করে তার রুমে নিয়ে যান। আমিও তার সঙ্গে যাই। কারণ কিছু লোক তখন উত্তেজিত হয়ে পড়েছিলেন। দেখলাম আমার মতো নিরীহ মানুষ এখানে হট্টগোল করে লাভ নেই। যারা আসছেন দূর দূরান্ত থেকে তার সমস্যা হয়ে যেতে পারে। 
কাস্টমার কেয়ার অফিসের কর্তা বললেন আমরা আপনাকে চিনেত পারছি। হান্নান সাব এই শাখার চেয়ারম্যান। উনার সঙ্গে একটু কথা বলেন। কোন হান্নান সাহেব জানতে চাইলে বলেন অধ্যক্ষ আব্দুল হান্নান। অর্থাৎ আল হামরার এমডি। ভরসা পেলাম। তাদের অফিসের কর্তার ফোন থেকে কল করে বললেন কথা বলতে। আমি কথা বললাম। উনি তেমন আগ্রহ না দেখিয়ে তার ডাকাতের পক্ষেই অবস্থান নিয়ে বললেন সবর করি লাউকা। আমি বেশী কথা না বাড়িয়ে ফোন রেখে দেই। এই হান্নান সাব জালালাবাদ পত্রিকার এমডি ছিলেন। তখন আমি সেখানে কাজ করতাম। ভরসা ছিলো উনি ন্যায় বিচার করবেন। শান্তনা দেবেন। কী ঘটেছে শুনবেন, জানবেন,। ‘সবর’ করার কথা বলায় মনে হলো উনার স্ত্রী এখন এমপি। তাই সবর করে নেয়াই ভালো। যার বউ এমপি তার কথায়তো সবর করতেই হবে। আর এই ডাক্তার টাকার পিশাচ। তাই তার কাছে মানবতার মুল্য না থাকারই কথা। আমাদের মতো শত রোগীর অভিশাপের টাকায় তাদের সংসার চলে। এটাতো স্বাভাবিক ঘটনা তাদের কাছে।
বি:দ্র
আমাদের একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ইবনে সিনার একটা কর্পোরেট চুক্তি রয়েছে। সে কারণে মাঝে মধ্যে সেবা পেয়েছি, এজন্য কৃতজ্ঞতা। আজ ঘোষণা দিয়ে সেখান থেকে আমার কার্ড প্রত্যাহার করলাম। সেই কার্ড ফেরতও দিয়ে দিবো। ইবনে সিনার সেবা বর্জনের ঘোষণা দিলাম। আশা করবো আমার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানও তাদের সঙ্গে এই চুক্তি বাতিল করবে। কারণ যে প্রতিষ্ঠানে অমানবিক মানুষদের অবস্থান তাদের সঙ্গে মানবিক মানুষদের প্রতিষ্ঠানের কোনো কর্পোরেট চুক্তি থাকতে পারে না। চলতে পারে না। 
সুস্থতা-অসুস্থতা আল্লাহর নেয়ামত। আল্লাহ শিফাদানকারী। আমি আল্লাহর হাওলা হয়ে গেলাম।’