https://www.emjanews.com/

16309

sports

প্রকাশিত

১২ জুন ২০২৬ ০৩:৩৯

আপডেট

১২ জুন ২০২৬ ০৩:৪৫

খেলাধুলা

বিশ্বকাপ ২০২৬

অভিশাপ ভেঙে বিশ্বকাপ শুরু মেক্সিকোর

৭মবার উদ্বোধনী ম্যাচে হারের পর মেক্সিকোর প্রথম উদ্বোধনী জয়

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬ ০৩:৩৯

ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ যেন এক অদ্ভুত মঞ্চ। এখানে শুধু ফুটবল খেলা হয় না, ইতিহাস নিজের পুরোনো হিসাবও মিটিয়ে নেয়। ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রথম রাতে মেক্সিকো সিটির আকাশে তাই শুধু আতশবাজির আলোই জ্বলেনি, জ্বলে উঠেছিল বহু বছরের অপূর্ণতার আগুনও।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ এর উদ্বোধনী ম্যাচে মেক্সিকো ২-০ গোলে হারিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকাকে। কিন্তু এই জয় কেবল তিন পয়েন্ট বা একটি ম্যাচের ফল নয়; এটি প্রায় এক শতাব্দী পুরোনো এক অভিশাপ ভাঙার গল্প।

সেই ১৯৩০ সালের প্রথম বিশ্বকাপ থেকে উদ্বোধনী ম্যাচে সাতবার খেলেও কখনও জিততে পারেনি মেক্সিকো। ইতিহাস যেন প্রতিবারই তাদের কাঁধে হাত রেখে বলেছে, ‘আজ নয়।’ কিন্তু আজতেকা স্টেডিয়ামের রাতটা অন্যরকম ছিল। গ্যালারিতে ৮৩ হাজার দর্শকের ঢেউ, পতাকার রং, ট্রাম্পেটের শব্দ আর বিখ্যাত ‘মেক্সিকান ওয়েভ’; সব মিলিয়ে মনে হচ্ছিল শহরটি নিজেই ফুটবল হয়ে উঠেছে।

ম্যাচের ঘড়িতে তখন মাত্র ৮ মিনিট ৩২ সেকেন্ড। হঠাৎই দক্ষিণ আফ্রিকার রক্ষণভাগ চিরে বেরিয়ে এলেন হুলিয়ান। তাঁর শটে বল জালে জড়াতেই আজতেকা যেন একসঙ্গে নিঃশ্বাস ছাড়ল। দীর্ঘ প্রতীক্ষার দরজা খুলে গেল প্রথম গোলেই।

এর আগেই অবশ্য গোলের আভাস দিয়েছিলেন রাউল জিমনেজ। তৃতীয় মিনিটে তাঁর জোরালো শট দারুণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দিয়েছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার গোলরক্ষক উইলিয়ামস। কিন্তু সেই প্রতিরোধ ছিল কেবল ঝড়ের আগের বাঁধ।

প্রথমার্ধে বল যেন মেক্সিকোর পায়ের কাছেই থাকতে চেয়েছিল। ৫৭ শতাংশ সময় বলের নিয়ন্ত্রণ, ১০টি শট, একের পর এক আক্রমণ; স্বাগতিকদের খেলার মধ্যে ছিল আত্মবিশ্বাসের ছাপ। দক্ষিণ আফ্রিকা মাঝে মাঝে পাল্টা আক্রমণে উঠলেও তা মরুভূমির বুকে ক্ষণিকের বাতাসের মতোই মিলিয়ে গেছে।

দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের গল্প আরও নাটকীয় হয়ে ওঠে।

৫০ মিনিটে দক্ষিণ আফ্রিকার মিডফিল্ডার সেফেলো লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন। এক খেলোয়াড় কমে যাওয়া দলটি তখনও লড়াইয়ের চেষ্টা করছিল। কিন্তু ৬৭ মিনিটে আবার আঘাত হানে মেক্সিকো। গোল করেন রাউল হিমিনেজ। তাঁর শটে বল জালে জড়ানোর মুহূর্তে মনে হচ্ছিল, শুধু একটি গোল নয়, উদ্বোধনী ম্যাচে জয়ের অসমাপ্ত অধ্যায়টিও পূর্ণবিরাম পেল।

তবু নাটক তখনও শেষ হয়নি।

৮৪ মিনিটে দক্ষিণ আফ্রিকার আরেক মিডফিল্ডার থেম্বা লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন। নয়জনের দলে পরিণত হয় আফ্রিকানরা। শেষদিকে, যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে মেক্সিকোর সেন্টার-ব্যাক সিজার মনথেসও সরাসরি লাল কার্ড দেখেন।

ফলে ম্যাচটি শেষ হয় তিনটি লাল কার্ডের বিরল এক পরিসংখ্যানে; বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচের ইতিহাসে যা সর্বোচ্চ।

রাতের শেষে স্কোরবোর্ডে লেখা ছিল: মেক্সিকো ২, দক্ষিণ আফ্রিকা ০। কিন্তু সংখ্যার বাইরে আরও কিছু লেখা ছিল সেখানে। লেখা ছিল ৯৬ বছরের অপেক্ষার অবসান। লেখা ছিল ঘরের মাঠের গর্ব। লেখা ছিল আজতেকার অমর স্মৃতি।

একসময় উদ্বোধনী ম্যাচ ছিল মেক্সিকোর জন্য অস্বস্তির অন্য নাম। আজ সেই ম্যাচই হয়ে উঠল উৎসবের সবচেয়ে সুন্দর অংশ। ইতিহাস কখনও কখনও অনেক দেরিতে আসে, কিন্তু যখন আসে, তখন তার পদধ্বনি পুরো স্টেডিয়াম শুনতে পায়। আর সেই পদধ্বনির নাম-মেক্সিকোর প্রথম উদ্বোধনী জয়।