সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ কার্যক্রম নিয়ে বিতর্ক
প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬ ১৭:৩২
ছবি: সংগৃহীত
সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (সুবিপ্রবি) নিয়োগ কার্যক্রমের স্বচ্ছতা ও নীতিমালা অনুসরণ নিয়ে সিন্ডিকেট সদস্যদের মধ্যে মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে। একাংশ নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার ঘাটতির অভিযোগ তুললেও অন্যরা বলছেন, সব কার্যক্রম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত নিয়ম ও বিধি অনুসারেই পরিচালিত হচ্ছে।
২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে সুনামগঞ্জ টেক্সটাইল ইনস্টিটিউটের অস্থায়ী ক্যাম্পাসে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করে সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। বর্তমানে গণিত, রসায়ন, পদার্থবিজ্ঞান এবং কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল (সিএসই) বিভাগে দুটি ব্যাচে প্রায় ৩২০ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছেন।
প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন নিয়োগ কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। সম্প্রতি সেকশন অফিসার ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা পদে লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। এর আগেও বিভিন্ন প্রশাসনিক পদে নিয়োগকে কেন্দ্র করে প্রশ্ন উঠেছিল।
বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করেন, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির যোগ্যতা ও শর্তাবলীতে একাধিকবার পরিবর্তন আনা হয়েছে। তাঁর দাবি, নিয়োগ নীতিমালা পর্যালোচনার জন্য একটি কমিটি গঠন করা হলেও সেই কমিটির সুপারিশ এখনো কার্যকর করা হয়নি। বিষয়টি নিয়ে সিন্ডিকেট সভায়ও আলোচনা হয়েছে বলে তিনি জানান।
সিন্ডিকেট সদস্য নুরুল ইসলাম সাজু বলেন, নিয়োগ কার্যক্রমকে আরও স্বচ্ছ ও নীতিমালাভিত্তিক করার লক্ষ্যে তিনি পূর্ববর্তী সভায় প্রস্তাব উত্থাপন করেছিলেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে একটি পর্যালোচনা কমিটি গঠন করা হয়। তবে কমিটির কার্যক্রম এখনো শুরু হয়নি বলে তিনি দাবি করেন। তাঁর মতে, নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে যেসব প্রশ্ন উঠেছে, সেগুলো স্বাধীন তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।
অন্যদিকে সিন্ডিকেট সদস্য প্রফেসর ড. মো. শহীদুর রহমান বলেন, নিয়োগ নীতিমালা পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত হয়েছে এবং তাঁকে ওই কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো চিঠি তিনি পাননি। তিনি আরও জানান, নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিত রাখার বিষয়ে সিন্ডিকেটে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
সিন্ডিকেট সদস্য প্রফেসর আব্দুল্লাহ খান বলেন, একটি নবীন বিশ্ববিদ্যালয়ে দক্ষ ও প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ নিশ্চিত করতে কিছু ক্ষেত্রে যোগ্যতার শর্ত শিথিল করার প্রস্তাব এসেছে। তবে নিয়োগ কার্যক্রম বন্ধ বা স্থগিত করার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. নিজাম উদ্দিন বলেন, সিন্ডিকেটের অনুমোদন ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো নিয়োগ দেওয়া হয়নি। অতীতে সম্পন্ন হওয়া নিয়োগগুলোও সিন্ডিকেটের অনুমোদনক্রমেই হয়েছে। বর্তমানে চলমান নিয়োগ প্রক্রিয়াও প্রয়োজনীয় অনুমোদন পাওয়ার পরই চূড়ান্ত হবে।
তিনি দাবি করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ কার্যক্রমে অনিয়ম বা অস্বচ্ছতার কোনো সুযোগ নেই এবং সবকিছু প্রতিষ্ঠানের বিধিবিধান ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসারেই পরিচালিত হচ্ছে।
নিয়োগ কার্যক্রম ঘিরে ভিন্নমতের কারণে বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা গেলে এ ধরনের বিতর্কের অবসান ঘটবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও গ্রহণযোগ্য হবে।
