https://www.emjanews.com/

16308

sports

প্রকাশিত

১২ জুন ২০২৬ ০৩:২৫

খেলাধুলা

ব্রাজিলের জার্সি সাদা থেকে হলুদ কেন হলো?

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬ ০৩:২৫

ছবি: সংগৃহীত

আজ ব্রাজ়িল মানেই হলুদ জার্সি। টিভি খুললেই মনে হয় মাঠে ১১ জন ফুটবলার নয়, ১১টা সূর্য দৌড়চ্ছে! কিন্তু এক সময় এই ব্রাজ়িলই খেলত সাদা জার্সি পরে। তারপর এমন এক ঘটনা ঘটল, যার পরে সাদা জার্সির ভাগ্যে কার্যত বনবাস জুটল।

ঘটনাটা ১৯৫০ সালের। বিশ্বকাপ হচ্ছে ব্রাজ়িলের ঘরের মাঠে। মারাকানা স্টেডিয়ামে লাখো সমর্থক আগেভাগেই ট্রফিতে নিজেদের নাম লিখে ফেলেছেন। ব্রাজ়িলও ভাবছিল, ‘কাপটা কোথায় রাখব?’ কিন্তু ফুটবল দেবতা তখন অন্য চিত্রনাট্য লিখে রেখেছেন।

ফাইনালে উরুগুয়ের বিরুদ্ধে ১-২ গোলে হেরে গেল ব্রাজ়িল। পুরো দেশ যেন একসঙ্গে দীর্ঘশ্বাস ফেলল। কেউ কাঁদলেন, কেউ হতবাক, আর কেউ হয়তো মনে মনে বললেন, ‘সমস্যাটা কোথায়?’

এরপর ফুটবলপ্রেমীদের একাংশের রায়- ‘সমস্যা সাদা জার্সিতে!’

ব্যস, সাদা জার্সির বিরুদ্ধে যেন গণআন্দোলন শুরু হয়ে গেল। সিদ্ধান্ত হল, নতুন জার্সি চাই। তবে এমন জার্সি, যাতে দেশের পতাকার সব রং থাকে।

এই সময় হাজির হলেন ১৯ বছরের এক তরুণ, আলদির গার্সিয়া শিলি। তিনি এমন একটি নকশা বানালেন, যাতে ছিল পতাকার হলুদ, সবুজ ও নীল রং। মোজা অবশ্য সাদা রাখা হয়েছিল; সম্ভবত সাদার বিরুদ্ধে তখনও পুরোপুরি চার্জশিট গঠন হয়নি!

১৯৫৪ সালে প্রথম সেই জার্সি পরে মাঠে নামে ব্রাজ়িল। আর তারপর যা হল, তা ইতিহাস।
১৯৫৮ সালে প্রথম বিশ্বকাপ,
১৯৬২ সালে দ্বিতীয়,
১৯৭০ সালে তৃতীয়।

ফুটবলপ্রেমীরা তখন বলতে শুরু করলেন, ‘দেখেছ? হলুদ জার্সি পরলেই কাজ হয়!’

পরে ১৯৯৪ ও ২০০২ সালেও বিশ্বকাপ জিতে ব্রাজ়িল প্রমাণ করে দেয়, এই হলুদ জার্সি শুধু পোশাক নয়, প্রায় জাতীয় সম্পদ।

তবে গল্পে একটু টুইস্টও আছে। ২০০২ সালের পর থেকে আর বিশ্বকাপ জেতেনি ব্রাজ়িল। তার মধ্যে ২০১৪ সালে নিজেদের মাঠে জার্মানির কাছে ১-৭ গোলে হার। সেই ম্যাচের পর হয়তো অনেক সমর্থক জার্সির দিকে তাকিয়ে ভাবছিলেন,
‘হলুদ তো আছে, ম্যাজিকটা গেল কোথায়?’

এখন নতুন কোচ কার্লো আনচেলোত্তির হাতে দায়িত্ব। ব্রাজ়িল সমর্থকদের আশা, হলুদ জার্সির পুরনো জাদু আবার ফিরবে। কারণ ব্রাজ়িলে একটা বিশ্বাস এখনও টিকে আছে- জার্সির রং বদলানো সহজ, কিন্তু বিশ্বকাপ জেতার ক্ষুধা বদলানো যায় না!