https://www.emjanews.com/

16536

international

প্রকাশিত

২০ জুন ২০২৬ ২১:৪৩

আন্তর্জাতিক

আজাদ কাশ্মিরে বিক্ষোভ-সংঘ.র্ষে নিহ.ত ২৪, কারফিউতে অচল জনজীবন

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬ ২১:৪৩

ছবি: সংগৃহীত

অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক সংস্কারের দাবিতে বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত আজাদ কাশ্মির অঞ্চল। টানা আন্দোলন, সংঘর্ষ ও নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে এখন পর্যন্ত অন্তত ২৪ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন বহু মানুষ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কারফিউ জারি করেছে প্রশাসন, বন্ধ রাখা হয়েছে প্রধান সড়ক ও ইন্টারনেট সংযোগ।

ঐতিহাসিকভাবে ১৯৪৭ সালে জম্মু-কাশ্মিরের দুটি অঞ্চল- আজাদ কাশ্মির ও গিলগিট-বাল্টিস্তান- পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রণে আসে। উভয় অঞ্চলে পৃথক আইনসভা থাকলেও কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণ ব্যাপক। আজাদ কাশ্মিরের ৪৫ সদস্যের আইনসভার মধ্যে ১২টি আসন ভারতের জম্মু-কাশ্মির থেকে আসা উদ্বাস্তুদের জন্য সংরক্ষিত।

এই সংরক্ষণ ব্যবস্থা বাতিল এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধির দাবিতে গত ৫ জুন থেকে আন্দোলন শুরু করে স্থানীয় রাজনৈতিক সংগঠন জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটি (জেএএকে)। আন্দোলনের অংশ হিসেবে ৯ জুন ডাকা হরতালকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ শুরু হয়, যা পরে সহিংস রূপ নেয়।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, গত প্রায় দুই সপ্তাহে সংঘর্ষে ২৪ জন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন অসংখ্য মানুষ। একই সময়ে বিক্ষোভে জড়িত থাকার অভিযোগে জেএএকের ৫১৫ জন নেতাকর্মী ও সমর্থককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পুলিশের দাবি, বিক্ষোভকারীদের হামলায় ৯৭ জন পুলিশ কর্মকর্তা আহত হয়েছেন এবং কয়েকজন পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন।

আজাদ কাশ্মিরের পুলিশপ্রধান লিয়াকত আলী মালিক সংবাদ সংস্থা এএফপিকে জানিয়েছেন, বর্তমানে বিক্ষোভের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে রাওয়ালকোট শহর, যা রাজধানী মুজাফফরাবাদ থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন কারফিউ জারি করেছে। শহরের প্রধান সড়কগুলোতে নিরাপত্তা বাহিনীর কড়া অবস্থান রয়েছে। পাশাপাশি ইন্টারনেট সেবা বন্ধ এবং সংবাদমাধ্যমের কার্যক্রমও সীমিত করা হয়েছে।

বিক্ষোভ ও কারফিউয়ের কারণে জনজীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। খাদ্য, ওষুধ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ সংকটে পড়েছে সাধারণ মানুষ।

মুজাফফরাবাদের বাসিন্দা মুহাম্মদ মাসকিন বলেন, ‘ওষুধের জন্য কয়েকদিন ধরে খুঁজছি, কিন্তু কোথাও পাচ্ছি না। বড় বড় ফার্মেসিগুলোও বন্ধ। যেগুলো খোলা আছে, সেখানেও মজুত শেষ হয়ে গেছে।’

আরেক বাসিন্দা সাবার হোসেন বলেন, “গত আট দিন ধরে আমরা চরম দুর্ভোগে আছি। বাজারগুলো বন্ধ। শাক-সবজি ছাড়া প্রয়োজনীয় অন্য কোনো পণ্য পাওয়া যাচ্ছে না।”

ক্রমবর্ধমান এই অস্থিরতায় আজাদ কাশ্মিরে মানবিক সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে দ্রুত রাজনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় নেতারা।