https://www.emjanews.com/

16408

international

প্রকাশিত

১৫ জুন ২০২৬ ০১:৪৬

আন্তর্জাতিক

পরমাণু অ.স্ত্র না তৈরির শর্তে সমঝোতা চুক্তি করতে রাজি ইরান

প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২৬ ০১:৪৬

ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘদিনের উত্তেজনা, সংঘাত ও পারস্পরিক অবিশ্বাসের পর অবশেষে সমঝোতার পথে এগোচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। সম্ভাব্য চুক্তির খসড়ায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি। খসড়া অনুযায়ী, পরমাণু অস্ত্র তৈরি বা অর্জন না করার অঙ্গীকারের বিনিময়ে তেহরানের ওপর থেকে বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা শিথিল করতে এবং অর্থনৈতিক সুবিধা দিতে প্রস্তুত ওয়াশিংটন।

ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, দুই দেশের মধ্যে আলোচনায় থাকা চূড়ান্ত সমঝোতা স্মারকে পরমাণু কর্মসূচি, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া, ইরানের তেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং বিদেশে আটকে থাকা ইরানি সম্পদ মুক্ত করার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

খসড়া অনুযায়ী, তেহরান প্রতিশ্রুতি দেবে যে তারা কোনো অবস্থাতেই পরমাণু অস্ত্র তৈরি বা অর্জনের চেষ্টা করবে না। চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত ইরান তাদের বর্তমান পরমাণু কর্মসূচির অবস্থা বজায় রাখবে এবং নতুন করে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বা পারমাণবিক স্থাপনা সম্প্রসারণ করবে না।

এ ছাড়া ভবিষ্যতের একটি বিস্তৃত চুক্তির অংশ হিসেবে ইরান তাদের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুতের মান কমিয়ে আনার বিষয়েও নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই প্রক্রিয়া ইরানের নিজস্ব ভূখণ্ডেই সম্পন্ন হবে বলে খসড়ায় উল্লেখ রয়েছে।

এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর নতুন কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। চূড়ান্ত চুক্তি বাস্তবায়নের পর ধাপে ধাপে মার্কিন ও জাতিসংঘের বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের কথাও বলা হয়েছে।

খসড়ার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো ইরানের অর্থনীতিকে স্বস্তি দেওয়ার উদ্যোগ। যুক্তরাষ্ট্র নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ইরানের তেল খাতের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে আবারও তেল বিক্রি করে রাজস্ব আয় করতে পারবে তেহরান।

এ ছাড়া বিদেশি ব্যাংকে আটকে থাকা প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলারের ইরানি সম্পদ মুক্ত করার বিষয়েও সমঝোতা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ওই কর্মকর্তা। সরাসরি অর্থ ছাড়, আঞ্চলিক দেশগুলোর সহযোগিতা এবং বিশেষ আর্থিক ব্যবস্থার মাধ্যমে এই অর্থ ইরানের কাছে পৌঁছে দেওয়া হতে পারে।

নিরাপত্তা ও বাণিজ্যিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি রয়েছে খসড়ায়। প্রাথমিক চুক্তি কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে হরমুজ প্রণালি সব বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য পুনরায় খুলে দেবে ইরান। একই সময়ে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর থাকা নৌ-অবরোধ প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শুরু করবে যুক্তরাষ্ট্র।

খসড়া অনুযায়ী, প্রাথমিক সমঝোতা সইয়ের পরবর্তী ৬০ দিনের মধ্যে দুই পক্ষ পারমাণবিক কর্মসূচি, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ এবং উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবে। সেই আলোচনার ভিত্তিতেই চূড়ান্ত চুক্তির রূপরেখা নির্ধারণ করা হবে।

সব মিলিয়ে, পরমাণু অস্ত্র না তৈরির প্রতিশ্রুতিকে কেন্দ্র করেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্ভাব্য নতুন সমঝোতা গড়ে উঠছে। সফল হলে এটি শুধু দুই দেশের সম্পর্কেই নতুন অধ্যায় সূচনা করবে না, মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।