ছবি: অনন্ত চন্দ্র বিশ্বাস।
যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সুনামগঞ্জ সদর থানার পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মরত এক পুলিশ কনস্টেবলকে আদালতের নির্দেশে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
রোববার (২১ জুন) হবিগঞ্জের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১-এ মামলাটির চার্জ গঠন ও শুনানির দিন ধার্য ছিল। শুনানিকালে আসামি আদালতে উপস্থিত হলে বিচারক তার জামিন বাতিল করে কারাগারে প্রেরণের আদেশ দেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, সুনামগঞ্জ সদর পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মরত পুলিশ কনস্টেবল অনন্ত চন্দ্র বিশ্বাসের বিরুদ্ধে তার স্ত্রী প্রভাতী রানী দাশ যৌতুক নিরোধ আইন, ২০১৮-এর ধারা ৩ অনুযায়ী সি.আর. মামলা দায়ের করেন।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ২০১৭ সালে তাদের বিয়ে হয়। দাম্পত্য জীবনে তাদের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকেই অনন্ত চন্দ্র বিশ্বাস স্ত্রীর কাছে ৪ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে আসছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়। যৌতুকের দাবিতে বিভিন্ন সময় তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২২ সালের ২৯ জানুয়ারি স্ত্রী ও শিশু সন্তানকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। পরে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিক সালিশ বৈঠক হলেও কোনো সমাধান হয়নি।
বাদীপক্ষের দাবি, ২০২৪ সালের ১১ মে অভিযুক্ত ব্যক্তি পুনরায় শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে যৌতুকের টাকা দাবি করেন। দাবিকৃত অর্থ দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তিনি গালিগালাজ করে যৌতুক ছাড়া সংসার করবেন না বলে চলে যান। এর পরই প্রভাতী রানী দাশ আদালতের শরণাপন্ন হন।
মামলা দায়েরের পর আদালত প্রথমে সমন জারি করেন। পরে আসামি আদালতে হাজির না হওয়ায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। একপর্যায়ে তিনি জামিন পেলেও আদালতের নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী কোনো সমঝোতা করেননি বলে জানা গেছে। পরবর্তীতে আদালতে অনুপস্থিত থাকায় তার বিরুদ্ধে আবারও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।
রোববার আদালতে হাজির হলে বিচারক তার জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
বাদীপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট আবু নঈম মোল্লা, অ্যাডভোকেট মো. শিবলী খায়ের এবং অ্যাডভোকেট আলমগীর।
এদিকে, কর্মরত এক পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে বিচারাধীন মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি এবং পরবর্তীতে তাকে কারাগারে পাঠানোর ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মামলার পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
