ছবি: জিসান প্রধান।
কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে নিখোঁজ হওয়ার একদিন পর লাকসাম থেকে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা জিসান প্রধানকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এক নারীকে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ এবং জোরপূর্বক ভ্রূণ নষ্ট করার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।
শনিবার (১৩ জুন) বিকেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
পুলিশ সুপার বলেন, `কেন্দ্রীয় ছাত্রশিবির নেতা জিসান প্রধানকে কেউ অপহরণ করেনি। তিনি স্বেচ্ছায় আত্মগোপনে ছিলেন। ভুক্তভোগী নারীর দায়ের করা মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।'
তিনি আরও জানান, বর্তমানে জিসান প্রধান কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পুলিশি হেফাজতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসা শেষে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।
অভিযুক্ত জিসান প্রধান ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক এবং কুমিল্লা জেলা পশ্চিম শাখার সাবেক সভাপতি ছিলেন।
এদিকে প্রেমের সম্পর্কের অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় সাংগঠনিক নিয়ম অনুযায়ী জিসান আহমেদকে সংগঠন থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের প্রচার সম্পাদক এস এম ফরহাদ।
শনিবার দুপুরে নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক পোস্টে তিনি বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রকাশনা সম্পাদক আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা এখনো তার সঙ্গে দেখা করতে পারিনি। তিনি পুলিশি হেফাজতে চিকিৎসা নিচ্ছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘জিসানের বিরুদ্ধে এক নারী ধর্ষণের মামলা করেছেন। আমরা বিষয়টি তদন্ত করছি। তার ব্যক্তিগত কোনো অপরাধের দায় সংগঠন নেবে না।’
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে এবং তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
