ওজন কমানোর কথা উঠলেই ভোজনরসিক বাঙালির মনে প্রমাদ জাগে—তবে কি চালের সঙ্গে আড়ি করতে হবে? দীর্ঘকাল ধরে ভাতের ওপর দায় চাপানো হলেও আধুনিক পুষ্টিবিজ্ঞান বলছে ভিন্ন কথা। রাতের খাবারে ভাত থাকলে কি সত্যিই পাল্লায় ওজন বাড়ে? এই বিতর্ক ও বিভ্রান্তি নিরসনে বিশেষ আলোকপাত করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ওজন বৃদ্ধি বা কমার মূলমন্ত্র হলো সারাদিনের ক্যালোরি ইনটেক বা গ্রহণের ভারসাম্য। আপনি দিনে কতটুকু ক্যালোরি গ্রহণ করছেন এবং কায়িক পরিশ্রমের মাধ্যমে কতটা পোড়াচ্ছেন, তার ওপরই নির্ভর করে দেহের মেদ। শরীর যতটুকু শক্তি ব্যবহার করে, তার চেয়ে কম ক্যালোরি গ্রহণ করলে রাতে ভাত থাকার পরেও ওজন বাড়বে না। অর্থাৎ, ভাত খেলেই ওজন বাড়ে—এই প্রচলিত ধারণাটি সম্পূর্ণ সত্য নয়।
পুষ্টিবিদরা বলছেন, খাবারের সময়ের চেয়ে পরিমাণের গুরুত্ব বেশি। রাতে ভাত পুরোপুরি বর্জন না করে বরং তা নিয়ন্ত্রিত মাত্রায় রাখার পরামর্শ দেন তারা। এক কাপ বা আধা কাপ ভাতের সাথে পর্যাপ্ত ডাল, মাছ, চিকেন বা প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার এবং প্রচুর পরিমাণে সবজি রাখলে সেটি একটি আদর্শ ও সুষম খাবারে পরিণত হয়। ফাইবার সমৃদ্ধ শাকসবজি ভাতের শর্করাকে ধীরে শুষে নিতে সাহায্য করে।
অনেকের ধারণা, রাতে ভাতের চেয়ে রুটি বেশি ক্যালোরি কমায়। তবে পুষ্টিবিদদের মতে, ভাত বা রুটি উভয়ই স্বাস্থ্যকর ডায়েটের অংশ হতে পারে। এটি নির্ভর করে ব্যক্তির হজম ক্ষমতা ও পছন্দের ওপর। সাদা চালের পরিবর্তে লাল চাল বা ব্রাউন রাইস বেছে নেওয়া ওজন কমানোর যাত্রায় বেশি সহায়ক হতে পারে। এছাড়া খাবার শেষ করার পর অন্তত দুই ঘণ্টা দেরি করে ঘুমাতে গেলে পরিপাক ভালো হয়।
সারসংক্ষেপ হলো, ওজন কমাতে চাইলে ভাতকে শত্রু ভাবার প্রয়োজন নেই। সারাদিনের খাদ্যাভ্যাস যদি সুশৃঙ্খল হয় এবং খাবারের পরিমাণ যদি পরিমিত থাকে, তবে রাতেও নিশ্চিন্তে ভাত খাওয়া সম্ভব। মূলত ক্যালোরির ভারসাম্য বজায় রাখাই সুস্থ থাকার ও ওজন নিয়ন্ত্রণের আসল চাবিকাঠি।
