সিলেটের জ্বালানি খাতে বড় ধরনের বিনিয়োগের প্রস্তাব নিয়ে এসেছে মার্কিন জ্বালানি জায়ান্ট কোম্পানি শেভরন। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে অন্তত আড়াই হাজার কোটি টাকা (২০ কোটি ডলার) নতুন করে বিনিয়োগ করতে চায় প্রতিষ্ঠানটি। তবে এই বিশাল বিনিয়োগের বিপরীতে চারটি কঠিন শর্ত জুড়ে দিয়েছে তারা, যার মধ্যে অন্যতম হলো বর্তমান বাজার অনুযায়ী গ্যাসের দাম দ্বিগুণ করা।
শেভরনের পক্ষ থেকে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া প্রস্তাবে বলা হয়েছে, বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলে নতুন করে ৫ ট্রিলিয়ন ঘনফুট (টিসিএফ) গ্যাস পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি সিলেটের ৬ হাজার ২২৬ বর্গকিলোমিটার এলাকা বরাদ্দ চেয়েছে এবং নিজেদের অংশীদার হিসেবে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাপেক্সকে রাখার প্রস্তাব দিয়েছে। শেভরনের প্রস্তাবিত শর্তগুলোর মধ্যে প্রধান হচ্ছে গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি। বিবিয়ানা গ্যাসক্ষেত্রের বর্তমান দাম ১৯৯৫ সালের পিএসসি চুক্তি অনুযায়ী নির্ধারিত, যা এখনকার বিশ্ববাজারের তুলনায় অনেকটাই কম। নতুন চুক্তিতে তারা আন্তর্জাতিক মডেল পিএসসির আদলে দর নির্ধারণের দাবি জানিয়েছে, যা কার্যকর হলে গ্যাসের সরকারি ক্রয়মূল্য প্রায় দ্বিগুণ হতে পারে।
দ্বিতীয় শর্ত হিসেবে প্রতিষ্ঠানটি ২০৩৩ সালে শেষ হতে যাওয়া বিবিয়ানা গ্যাসক্ষেত্রের চুক্তির মেয়াদ ১৫ বছর বাড়িয়ে ২০৪৯ সাল পর্যন্ত করার প্রস্তাব দিয়েছে। তৃতীয় শর্তে রয়েছে শ্রমিকদের লভ্যাংশ তহবিল (ডব্লিউপিপিএফ) সংক্রান্ত আইনি জটিলতা নিরসন। বর্তমানে এ নিয়ে শ্রম আদালতে শতাধিক মামলা রয়েছে, যা পরিচালন ব্যয় থেকে মেটানোর দাবি জানিয়েছে শেভরন। চতুর্থ শর্তে সুনেত্র, ছাতকসহ নির্দিষ্ট কয়েকটি গ্যাস কাঠামো তাদের অধীনে বরাদ্দের দাবি করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, বর্তমানে দেশের দৈনিক গ্যাস উৎপাদনের একটি বড় অংশই জোগান দেয় শেভরন। তবে বিডিং বা দরপত্র ছাড়া এই বিশাল এলাকা মার্কিন সরকারের সাথে সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) আওতায় সরাসরি বরাদ্দ দেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে সরকারের নীতিনির্ধারক ও বিশেষজ্ঞরা পর্যালোচনা করছেন। এর আগে গঠিত একটি কমিটি দরপত্র ছাড়া নতুন এলাকা বরাদ্দ না দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিল। তবে আগের তুলনায় এবারের প্রস্তাবে কিছু কাঠামোগত পরিবর্তন এনেছে মার্কিন এই বহুজাতিক কোম্পানিটি।
