রাষ্ট্রীয় ব্যয় সংকোচন, জ্বালানি সাশ্রয় এবং পুলিশের জনবল ও যানবাহনের সংকট বিবেচনায় মন্ত্রিসভার ১৮ সদস্যের জন্য দেওয়া পুলিশের বিশেষ মুভমেন্ট এসকর্ট প্রত্যাহার করেছে সরকার। তবে ঢাকার বাইরে সরকারি সফরে গেলে আগের মতোই নিরাপত্তা সুবিধা পাবেন মন্ত্রীরা।
সরকারি ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে ১৪ জন ভিআইপি পুলিশের এসকর্ট সুবিধা পাচ্ছেন। ইতোমধ্যে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছে। একইসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীও তার নিজস্ব প্রটোকল কমিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মন্ত্রিসভার এক সদস্য জানান, পুলিশের যানবাহন সংকট এবং বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “কয়েকজন মন্ত্রী নিজেরাও এসকর্ট প্রত্যাহারের জন্য অনুরোধ করেছিলেন।”
মন্ত্রিসভার একটি উচ্চপর্যায়ের সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজেই তার প্রটোকল কমিয়েছেন। তার চলাচলের সময় আগে চারটি গাড়ি এসকর্টে থাকলেও এখন তা কমিয়ে দুটি করা হয়েছে। একইসঙ্গে যেসব মন্ত্রীর ক্ষেত্রে এসকর্ট অপরিহার্য নয় বলে মনে হয়েছে, তাদের সুবিধা প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হয়।
এর পরিপ্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ গত সপ্তাহে ডিএমপিকে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের নির্দেশ দেন। ডিএমপির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, এখন থেকে শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেই এসকর্ট দেওয়া হবে।
বর্তমানে যেসব ভিআইপি এসকর্ট পাচ্ছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, বিরোধীদলীয় নেতা ও উপনেতা, চিফ হুইপ এবং বিরোধীদলীয় চিফ হুইপসহ মোট সাতজন। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, এলজিআরডিমন্ত্রী, বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী এবং পরিকল্পনা উপদেষ্টাসহ আরও সাতজন এই সুবিধার আওতায় রয়েছেন।
ডিএমপি সূত্র জানায়, এসকর্ট প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র ঢাকার অভ্যন্তরে চলাচলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। ঢাকার বাইরে সরকারি সফরে গেলে মন্ত্রীরা আগের মতোই গানম্যান, হাউস গার্ড এবং পুলিশের বিশেষ নিরাপত্তা পাবেন।
গত ১৭ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ১৮ মন্ত্রী ঢাকায় পুলিশের মুভমেন্ট এসকর্ট সুবিধা পাচ্ছিলেন। বর্তমানে মন্ত্রিসভায় প্রধানমন্ত্রী ছাড়া আরও ২৪ জন মন্ত্রী রয়েছেন। এছাড়া সরকারে ২৫ জন প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টা রয়েছেন।
একজন মন্ত্রীর মুভমেন্ট এসকর্টে সাধারণত একজন উপপরিদর্শক (এসআই), চারজন কনস্টেবল এবং একটি পুলিশ পিকআপ ভ্যান থাকে। এদের বেতন-ভাতা ও জ্বালানি ব্যয় সরকার বহন করে।
যেসব ১৮ মন্ত্রীর এসকর্ট প্রত্যাহার করা হয়েছে তাদের মধ্যে রয়েছেন—ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, পরিবেশমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, মুক্তিযুদ্ধবিষয়কমন্ত্রী আহমেদ আজম খান, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা, বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির, শ্রম ও প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এবং কৃষি ও মৎস্যমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।
এছাড়া রয়েছেন পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনামন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের, শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকীর মাহবুব আনাম এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
পুলিশ সূত্র জানায়, বর্তমানে ঢাকায় ভিআইপিদের নিরাপত্তা ও চলাচলের জন্য মোট ১ হাজার ৬৯১ জন পুলিশ সদস্য মোতায়েন রয়েছেন। একজন ভিআইপির বাসভবনে শিফটভিত্তিক চারজন, কার্যালয়ে একজন এবং গাড়িবহরে পাঁচজন সদস্য দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি) থেকেও একজন গানম্যান দেওয়া হয়।
রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, প্রধান বিচারপতি, বিরোধীদলীয় নেতা, প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যানসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা ভিআইপি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। এছাড়া সরকারি গেজেটের মাধ্যমে অন্যান্য ব্যক্তিকেও ভিআইপি মর্যাদা দেওয়া হতে পারে।
