শিরোনাম
কমলগঞ্জে হাজার গাছের কমলাবাগান নিধন: পরিদর্শন করল তদন্ত কমিটি অনশন ভাঙলেন সোনাম ওয়াংচুক, সিজেপির আন্দোলনের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন আলোচনা গোয়াইনঘাটে সড়ক পরিদর্শনে মন্ত্রী আরিফুল হক চেীধুরী বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত: খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জকিগঞ্জ গ্যাস ফিল্ডে অচলাবস্থা নিরসন, খোলা হলো তালা স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ করে বরাদ্দ দেওয়া হবে: সিলেটে বাণিজ্যমন্ত্রী ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদের দায়িত্ব গ্রহণ আবেদনের শেষ সময় বিকাল তিনটায়, বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ রাতে! পে স্কেল আটকে থাকার দুই কারণ শুক্রবার ভারতজুড়ে বিক্ষোভের ডাক সিজেপির

https://www.emjanews.com/

17326

international

প্রকাশিত

২৪ জুলাই ২০২৬ ২২:১২

আন্তর্জাতিক

অনশন ভাঙলেন সোনাম ওয়াংচুক, সিজেপির আন্দোলনের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন আলোচনা

প্রকাশ: ২৪ জুলাই ২০২৬ ২২:১২

ছবি: অনশন ভাঙলেন সোনাম ওয়াংচুক।

সমাজকর্মী ও শিক্ষাবিদ সোনাম ওয়াংচুক ২৬ দিনের অনশন ভেঙেছেন। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে দিল্লির একটি হাসপাতালে কেন্দ্রীয় সরকারের কয়েকজন মন্ত্রী ও লাদাখের শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতিতে তিনি অনশন শেষ করেন। তবে তার এই সিদ্ধান্তের পর কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে চলমান আন্দোলনের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

ইনস্টাগ্রামে হাসপাতাল থেকে একটি ছবি প্রকাশ করে ওয়াংচুক জানান, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা, ডা. জিতেন্দ্র সিং এবং লেহ-লাদাখের শীর্ষ সংগঠনের নেতাদের উপস্থিতিতে তিনি অনশন ভেঙেছেন। তিনি বলেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ৬৫ জন সংসদ সদস্য ব্যক্তিগতভাবে অথবা চিঠির মাধ্যমে তাকে অনশন ভাঙার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। সম্ভাব্য সহিংসতা এড়াতে এবং সরকারের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার পর তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

তিনি দেশবাসীর প্রতি শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আন্দোলনকে কেন্দ্র করে কোথাও যেন কোনো ধরনের সহিংসতা না ঘটে।

পরে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় সোনাম ওয়াংচুক জানান, গত দুই দিন ধরে সরকারের সঙ্গে আলোচনা চলছিল। তিনি লিখিত আশ্বাস চেয়েছিলেন এবং শেষ পর্যন্ত সরকার তিনটি বিষয়ে তাকে আশ্বস্ত করেছে।

সরকার জানিয়েছে, যন্তর মন্তরে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে অংশ নেওয়া কিংবা ২০ জুলাইয়ের ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থী ও যুবকদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা বা এফআইআর করা হবে না।

এ ছাড়া প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় নিহত ২০ জনের বেশি শিক্ষার্থীর পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা রোধ এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সংসদে আলোচনা হবে বলেও প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবির বিষয়ে সরকার কোনো লিখিত আশ্বাস দেয়নি বলে জানিয়েছেন ওয়াংচুক। তবে তিনি বলেন, সংসদে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হবে বলে জানানো হয়েছে।

ওয়াংচুকের ভাষায়, তিনি চাইলে আরও কয়েক দিন অনশন চালিয়ে যেতে পারতেন। কিন্তু তার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল আন্দোলনে অংশ নেওয়া তরুণদের ভবিষ্যৎ রক্ষা করা।

তিনি বলেন, "যদি ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ না করেন, তাহলে আমাদের নয়, বরং সরকারেরই ক্ষতি হবে। আমার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল, শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে যেন কোনো মামলা না হয়।"

এদিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সামাজিক মাধ্যমে সোনাম ওয়াংচুকের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে একটি বার্তা দিয়েছেন। তিনি চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে দ্রুত আগের সুস্থ অবস্থায় ফিরে আসার কামনা করেন।

ওয়াংচুকের অনশন ভাঙার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-এর প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। তবে তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত যন্তর মন্তরে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

এদিকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের আচরণ নিয়ে বিজেপির ভেতর থেকেও সমালোচনা এসেছে। দলের প্রবীণ নেতা ও সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মুরলী মনোহর যোশী বলেছেন, শিক্ষার্থীদের উদ্বেগকে আইনশৃঙ্খলার সমস্যা হিসেবে না দেখে সহানুভূতির সঙ্গে সমাধান করা উচিত। নারী শিক্ষার্থীদের ওপর বলপ্রয়োগের ঘটনাও তিনি দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেন।

অন্যদিকে বিজেপি সংসদ সদস্য নিশিকান্ত দুবে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় প্রশাসনিক উদাসীনতার সমালোচনা করে জানান, এ কারণেই শিক্ষা সচিবকে পরিবর্তন করা হয়েছে।

শুক্রবার সরকার ও আন্দোলনকারীদের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। এরই মধ্যে ওয়াংচুকের অনশন ভাঙার সিদ্ধান্ত নিয়ে ভিন্নমতও দেখা দিয়েছে। কেউ এটিকে বাস্তববাদী সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ মনে করছেন এতে সরকারের ওপর চাপ কিছুটা কমেছে।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, সোনাম ওয়াংচুক অনশন শেষ করলেও শিক্ষাব্যবস্থায় জবাবদিহিতা, প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিচার এবং শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ের দাবিতে যে আন্দোলন শুরু হয়েছে, সেটি এখনও শেষ হয়নি। ভারতের তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্বে এই আন্দোলনের পরবর্তী ধাপ কীভাবে এগোয়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।