ছবি: সংগৃহীত
আগামী ৪ থেকে ১৭ নভেম্বর ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ফুটবল আসর সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ ২০২৬। সাতটি দেশের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিতব্য এই টুর্নামেন্টকে সামনে রেখে শনিবার (২৫ জুলাই) রাজধানীর একটি হোটেলে আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচন করা হয়েছে আসরের লোগো।
প্রথম দেখায় লোগোটি ফুটবলের আদলে তৈরি বলে মনে হলেও, নানা রঙের সমন্বয়ে এতে চতুরতার সঙ্গে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে ‘২৬’ সংখ্যাটিকে। তবে এটি শুধু একটি প্রতীক নয়; বরং বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, প্রকৃতি ও ক্রীড়া চেতনাকে একসঙ্গে ধারণ করা একটি শিল্পনির্ভর নকশা।
লোগো উন্মোচন অনুষ্ঠানে সাফের সাধারণ সম্পাদক পুরুষোত্তম কাট্টাল জানান, এই নকশার প্রতিটি উপাদান বাংলাদেশের পরিচয়কে বিশ্বদরবারে তুলে ধরার উদ্দেশ্যে যুক্ত করা হয়েছে।
লোগোতে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার লাল-সবুজ রঙের পাশাপাশি জাতীয় পশু রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের ডোরাকাটা দাগের প্রতিফলন রয়েছে। এর মাধ্যমে অদম্য শক্তি, নির্ভীক মানসিকতা ও বিজয়ের জন্য লড়াই করা ফুটবলারদের সাহসিকতার প্রতীক তুলে ধরা হয়েছে।
বাংলাদেশের ঐতিহাসিক স্থাপত্য ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যও স্থান পেয়েছে এই লোগোতে। এতে রয়েছে আহসান মঞ্জিল, লালবাগ কেল্লা, কান্তজীউ মন্দির এবং ষাট গম্বুজ মসজিদ। পাশাপাশি জাতীয় স্মৃতিসৌধ ও জাতীয় সংসদ ভবন ইতিহাস, স্বাধীনতা ও আধুনিক বাংলাদেশের প্রতীক হিসেবে যুক্ত হয়েছে।
দেশের জাতিগত বৈচিত্র্যকে তুলে ধরতে লোগোতে স্থান দেওয়া হয়েছে পার্বত্য অঞ্চলের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী থামি পোশাকের নকশা। একই সঙ্গে সবুজ বন্যপ্রকৃতির মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন এবং চট্টগ্রামের পার্বত্য অঞ্চলের সৌন্দর্য ও সেখানকার নারী ফুটবলারদের অনুপ্রেরণামূলক উত্থানের গল্প।
এছাড়া জাতীয় ফুল শাপলা এবং বিশ্বের দীর্ঘতম প্রাকৃতিক সমুদ্রসৈকত কক্সবাজারও লোগোতে স্থান পেয়েছে, যা বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও বৈশ্বিক পরিচয়কে আরও সমৃদ্ধভাবে তুলে ধরেছে।
আয়োজকদের মতে, সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ ২০২৬-এর এই লোগো শুধু একটি টুর্নামেন্টের প্রতীক নয়; এটি বাংলাদেশের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, বৈচিত্র্য ও ফুটবলপ্রেমের এক অনন্য দৃশ্যমান উপস্থাপনা।
