https://www.emjanews.com/

17447

sylhet

প্রকাশিত

৩০ জুলাই ২০২৬ ১৩:১৬

আপডেট

৩০ জুলাই ২০২৬ ১৫:২৪

সিলেট

দক্ষিণ সুরমা লতিফা শফি কলেজের প্রভাষক লিটন শর্মা বাঁচতে চান

প্রকাশ: ৩০ জুলাই ২০২৬ ১৩:১৬

ছবি: সংগৃহীত

মানুষের জীবন কখন কোন মোড়ে এসে থেমে যাবে, তা কেউ জানে না। যে মানুষটি কয়েকদিন আগেও শ্রেণিকক্ষে দাঁড়িয়ে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখাতেন, সংসারের হাল ধরতেন, সন্তানের হাসিতে নিজের ক্লান্তি ভুলে যেতেন; আজ সেই মানুষটিই হাসপাতালের শয্যায় জীবন আর মৃত্যুর মাঝখানে দাঁড়িয়ে সময়ের সঙ্গে লড়াই করছেন।

তিনি লিটন চন্দ্র শর্মা। দক্ষিণ সুরমার লতিফা শফি মহিলা ডিগ্রি কলেজের একজন প্রভাষক। সিলেটের রাগীব-রাবেয়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এই শিক্ষক হঠাৎই দুরারোগ্য কিডনি রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। বর্তমানে নিয়মিত ডায়ালাইসিসের মাধ্যমে তাকে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা চলছে। তবে চিকিৎসকদের মতে, দ্রুত কিডনি প্রতিস্থাপন ছাড়া তাকে সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনার আর কোনো বিকল্প নেই।

লিটন চন্দ্র শর্মা সিলেট মদন মোহন কলেজের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ২০০৪–২০০৫ শিক্ষাবর্ষের সাবেক শিক্ষার্থী। তার গ্রামের বাড়ি সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার মজুমদারী গ্রামে। শিক্ষক হিসেবে তিনি যেমন শিক্ষার্থীদের কাছে প্রিয়, তেমনি একজন দায়িত্বশীল স্বামী, স্নেহময় বাবা এবং পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্য।

কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে আজ সেই মানুষটির পরিবারই সবচেয়ে অসহায়। সাত বছরের একটি সন্তান প্রতিদিন বাবার ফিরে আসার অপেক্ষায় থাকে। অন্যদিকে তার স্ত্রী ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা। অনাগত সন্তানটি এখনও পৃথিবীর আলো দেখেনি, অথচ জন্মের আগেই তার জীবনে নেমে এসেছে অনিশ্চয়তার ছায়া। যে বাবা নবজাতককে প্রথমবার কোলে নেওয়ার স্বপ্ন দেখছিলেন, আজ তিনি হাসপাতালের বিছানায় নিজের জীবনটুকু আঁকড়ে ধরে আছেন।

প্রতিদিনের ডায়ালাইসিস, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা চালিয়ে যেতে বিপুল অর্থের প্রয়োজন হচ্ছে। সীমিত আয়ের একজন শিক্ষকের পরিবারের পক্ষে এই ব্যয় বহন করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। চিকিৎসার খরচ যত বাড়ছে, ততই ফুরিয়ে যাচ্ছে পরিবারের সঞ্চয়, বাড়ছে উদ্বেগ আর অনিশ্চয়তা।

স্বজনরা জানান, সময় খুবই অল্প। প্রয়োজনীয় অর্থ দ্রুত সংগ্রহ করা না গেলে যে কোনো সময় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। তাদের বিশ্বাস, সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, প্রবাসী, শুভানুধ্যায়ী, সহকর্মী, সাবেক শিক্ষার্থী এবং মানবিক হৃদয়ের মানুষজন এগিয়ে এলে হয়তো আবারও শ্রেণিকক্ষে ফিরবেন লিটন চন্দ্র শর্মা। আবারও দুই সন্তানের বাবা হয়ে নতুন জীবনের গল্প লিখবেন তিনি।

একজন শিক্ষক শুধু একটি পরিবারের নন, তিনি একটি সমাজের আলোকবর্তিকা। সেই আলোর প্রদীপ যেন নিভে না যায়। একজন বাবাকে বাঁচানো মানে একটি শিশুর হাসি ফিরিয়ে দেওয়া, একজন অন্তঃসত্ত্বা মায়ের আশ্রয় রক্ষা করা, একটি পরিবারের ভবিষ্যৎ বাঁচিয়ে রাখা।

স্বজনদের ভাষ্য, আমাদের সামান্য সহযোগিতাও হয়তো ফিরিয়ে দিতে পারে একজন শিক্ষকের জীবন, একটি পরিবারের স্বপ্ন এবং দুটি সন্তানের বাবাকে। একজন শিক্ষককে বাঁচাতে এবং একটি পরিবারকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে সমাজের বিত্তবানসহ সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে সহযোগিতার আহ্বান জানানো হয়েছে।

সহায়তা পাঠানোর মাধ্যম
ব্যাংক হিসাব
নাম: LITAN CHANDRA SARMA @ HASU RANI SHARMA
হিসাব নম্বর: 0200026187479 (Savings)
ব্যাংক: AGRANI BANK PLC, সুবিদবাজার শাখা, সিলেট

যোগাযোগ
রুবেল শর্মা: 01317861002
নিরঞ্জন শর্মা: 01717543437
সুরঞ্জন শর্মা: 01738234643

মানবিক সহায়তার একটি হাতই পারে এই অসহায় পরিবারটিকে নতুন করে বাঁচার আশা দিতে।