https://www.emjanews.com/

17713

sylhet

প্রকাশিত

১০ আগস্ট ২০২৬ ২২:১৪

আপডেট

১০ আগস্ট ২০২৬ ২২:১৬

সিলেট

ওসমানীনগরে এসএসসি-দাখিলের ফলাফলে হতাশা, জিপিএ-৫ পায়নি ১৩ প্রতিষ্ঠান

প্রকাশ: ১০ আগস্ট ২০২৬ ২২:১৪

ছবি: সংগৃহীত

সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার ৩৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে চলতি বছরের এসএসসি, ভোকেশনাল ও দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে ২০টি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা জিপিএ-৫ (এ+) অর্জন করেছে। তবে শতবর্ষী শরৎ সুন্দরী উচ্চ বিদ্যালয়সহ উপজেলার ১৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে কোনো শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করতে পারেনি। এতে অভিভাবকদের একাংশের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে।

সোমবার (১০ আগস্ট) উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. বদিউজ্জামান আহমদ স্বাক্ষরিত প্রকাশিত ফলাফল বিবরণী থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

ফলাফল বিবরণী অনুযায়ী, চলতি বছর ওসমানীনগর উপজেলায় মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি পরীক্ষায় পাসের হার ৫১ দশমিক ০২ শতাংশ।

অন্যদিকে, মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে দাখিল পরীক্ষায় পাসের হার ৫১ দশমিক ৯৬ শতাংশ।

এ বছর উপজেলার এসএসসি, ভোকেশনাল ও দাখিল পরীক্ষায় মোট ২ হাজার ৬৬০ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ১ হাজার ৫৭৩ জন। সব মিলিয়ে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩৫ জন শিক্ষার্থী।

উপজেলার মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলো থেকে এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় মোট ১ হাজার ৯০৩ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ১ হাজার ১৭১ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২৯ জন।

অন্যদিকে, উপজেলার ১১টি মাদরাসা থেকে দাখিল পরীক্ষায় ৭১২ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে ৩৭০ জন উত্তীর্ণ হয়েছে এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে পাঁচজন।

ভোকেশনাল শাখায় গোয়ালাবাজার আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৪৫ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। তাদের মধ্যে ৩২ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ৭১ দশমিক ১১ শতাংশ। এ প্রতিষ্ঠান থেকে একজন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে।

মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে পাসের হারে শীর্ষে রয়েছে খন্দকার বাজার উচ্চ বিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ৮৮ দশমিক ৭৮ শতাংশ। এ বিদ্যালয় থেকে একজন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে।

অন্যদিকে, সংখ্যার দিক থেকে সর্বোচ্চ জিপিএ-৫ অর্জন করেছে মজলচণ্ডী নিশীকান্ত সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠানটির নয়জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। এছাড়া গোয়ালাবাজার আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ছয়জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছে।

মাদরাসা পর্যায়ে পাসের হারে শীর্ষে রয়েছে চাতলপাড় জামেয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ৬৮ শতাংশ।

এদিকে, ফলাফল নিয়ে অভিভাবকদের একাংশের অভিযোগ, শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় যথেষ্ট মনোযোগী নন। ফলে শিক্ষার্থীরা পড়ালেখায় পিছিয়ে পড়ছে।

তবে শরৎ সুন্দরী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীদের পড়ালেখায় অমনোযোগিতা ফলাফল খারাপ হওয়ার অন্যতম কারণ। বর্তমানে তারা ইন্টারনেটে বেশি আসক্ত হয়ে পড়েছে। বিদ্যালয়ে আসতেও অনেক শিক্ষার্থী অনাগ্রহ দেখায়। পাশাপাশি অভিভাবকরাও সন্তানদের পড়ালেখার বিষয়ে নিয়মিত খোঁজখবর নেন না।

তিনি আরও বলেন, শিগগিরই সব শিক্ষার্থীর অভিভাবকদের নিয়ে বৈঠক করা হবে। শিক্ষার্থীদের পড়ালেখায় মনোযোগী করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুনমুন নাহার আশা বলেন, ফলাফল কিছুটা খারাপ হয়েছে। তবে অন্যান্য উপজেলার তুলনায় ওসমানীনগরের ফলাফল অনেকটাই ভালো হয়েছে। আগামীতে ফলাফল আরও ভালো হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।