শিরোনাম
ট্রিপল মার্ডার: মেয়ে সেলিনা সুলতানার এজহার, বাবুল মিয়াকে আসামী করা হয়নি সিলেটে সাত্তার ও সুরাইয়া দম্পতির জানাজায় মানুষের ঢল রায়নগর ট্রিপল মার্ডার: দম্পতির দাফন সম্পন্ন, মামলা করবেন ছেলে ৪৮ ঘণ্টায়ও মামলা হয়নি আলোচিত রায়নগর ট্র্যাজেডির ট্রিপল মার্ডার: প্রেম নয়, ছিল ‘চেনাজানা সম্পর্ক’ -এবার পুলিশের ভিন্ন সূর সিলেটে ট্রিপল মার্ডার: ঘাতক বাবুলকে জেল হাজতে প্রেরণ লঘুচাপের প্রভাবে সিলেটে টানা বৃষ্টির পূর্বাভাস যুক্তরাজ্য থেকে ফিরে মর্গে ছুটে গেলেন দুই মেয়ে: দাফন আগামীকাল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থেকে সরিয়ে নেয়া হলো সালাহউদ্দিনকে, এলেন এ্যানি যেভাবে একে একে ৩ জনকে খু/ন করে বাবুল: লোমহর্ষক বর্ণনা

https://www.emjanews.com/

17788

sylhet

প্রকাশিত

১৪ আগস্ট ২০২৬ ১৪:৩২

সিলেট

ট্রিপল মা.র্ডার

৪৮ ঘণ্টায়ও মামলা হয়নি আলোচিত রায়নগর ট্র্যাজেডির

প্রকাশ: ১৪ আগস্ট ২০২৬ ১৪:৩২

ছবি: এআই

সিলেট মহানগরীর রায়নগরে একই পরিবারের দম্পতি ও গৃহকর্মীকে হত্যার ঘটনায় ৪৮ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও এখনো মামলা হয়নি। পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র থেকে নিহত দম্পতির একমাত্র ছেলে দেশে ফেরার পর মামলার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে একমাত্র ছেলে আরিফ ইফতেখার বাসায় এসে পৌঁছান। দাফনের পর হয়তো এজহার দেওয়া হতে পারে।

এদিকে পুলিশ আটক বাবুল মিয়াকে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠিয়েছে। আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

বুধবার (১২ আগস্ট) সকালে রায়নগর মিতালী আবাসিক এলাকার ১১১ নম্বর বাসার দোতলা থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতরা হলেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের উপদেষ্টা আব্দুস সাত্তার (৯০), তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৭৫) এবং গৃহকর্মী তাহমিনা (১৫)।

নিহতদের ময়নাতদন্তে শরীরে একাধিক ধারালো অস্ত্রের আঘাতের তথ্য পাওয়া গেছে।

পুলিশের একটি সূত্র জানায়, গৃহকর্মী তাহমিনার শরীরে ১৭ থেকে ১৮টি ছুরিকাঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।

সুরাইয়া বেগমের ডান হাতের চারটি আঙুল কাটা ছিল। তার শরীরেও ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

আব্দুস সাত্তারের গলা ও ঘাড়ে একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।

ঘটনার পর সন্দেহভাজন হিসেবে বাবুল মিয়াকে আটক করা হয়। তিনি রায়নগর রাজবাড়ী এলাকার আক্তার মিয়ার কলোনির মৃত নূর মিয়া কবিরাজের ছেলে।

পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বাবুল হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে তথ্য দিয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।

পুলিশের ভাষ্য, বাবুল আগে ওই বাসায় রং করার কাজ করেছিলেন। ওই কাজের সূত্রে গৃহকর্মী তাহমিনার সঙ্গে তার পরিচয় ও যোগাযোগ হয়।

তাহমিনার কোনো আচরণে বাবুল ক্ষুব্ধ হন বলে পুলিশের দাবি।

পুলিশ বলছে, ওই ক্ষোভ থেকেই প্রথমে তাহমিনাকে ছুরিকাঘাত করা হয়।

তাকে রক্ষা করতে সুরাইয়া বেগম এগিয়ে এলে তাকেও ছুরিকাঘাত করা হয়।

এরপর আব্দুস সাত্তার এগিয়ে এলে তার সঙ্গে বাবুলের ধস্তাধস্তি হয়।

একপর্যায়ে তাকেও ছুরিকাঘাত করা হয় বলে পুলিশের ভাষ্য।

পরে বাবুল বারান্দা দিয়ে পালিয়ে যান বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন।

তবে হত্যাকাণ্ডের এসব তথ্য এখনো তদন্তাধীন। মামলার পর তদন্তে আরও বিস্তারিত তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে।

এদিকে বৃহস্পতিবার সকালে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি রক্তমাখা ছোরা উদ্ধার করে পুলিশ। বাবুলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রায়নগরের একটি খালি জায়গা থেকে ছোরাটি উদ্ধার করা হয়।

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার (উত্তর) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, ছোরাটি ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে।

ছোরায় থাকা রক্তের সঙ্গে ঘটনাস্থল থেকে সংগ্রহ করা রক্তের নমুনা মিলিয়ে দেখা হবে।

ঘটনাস্থলের বেসিন ও হাত ধোয়ার স্থানেও রক্তের চিহ্ন পাওয়া গেছে।

ছোরার ধাতব অংশে শুকনো রক্তের দাগ পাওয়া গেছে। একটি ব্যাগেও রক্তের দাগ রয়েছে।

এসব আলামত ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে যাচাই করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ আরও জানিয়েছে, ঘটনাস্থলে দরজার নিচের ছোট ছিটকানি ভাঙা অবস্থায় পাওয়া গেছে।

বাবুল যে বারান্দা দিয়ে পালানোর কথা বলেছেন, সেখানকার রেলিংয়ে হাত ও পায়ের ছাপ পাওয়া গেছে।

বারান্দার নিচেও রক্তের চিহ্ন পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ঘটনার পর ৪৮ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো হত্যা মামলা করা হয়নি।

বৃহস্পতিবার দুই মেয়ে ও এক মেয়েজামাই ইংল্যান্ড থেকে দেশে এসে মরদেহ গ্রহণ করেন।

পরে লাশবাহী ফ্রিজিং গাড়িতে করে মরদেহ বাসায় নিয়ে রাখা হয়।

পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করার কথা জানানো হলেও এখন পর্যন্ত এজাহার দেওয়া হয়নি।

প্রশাসনের পক্ষ থেকেও পরিবারের সঙ্গে কয়েক দফা যোগাযোগ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

তবে পরিবার যুক্তরাষ্ট্র থেকে নিহত আব্দুস সাত্তারের একমাত্র সন্তানের দেশে ফেরার অপেক্ষায় ছিল।

শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে তার একমাত্র ছেলে ও সাবেক ছাত্রদল নেতা আরিফ ইফতেখার দেশে ফেরেন।

এরপরও বিকেল পর্যন্ত মামলা হয়নি।

পরিবার জানিয়েছে, শুক্রবার বিকেলে ঈদগাহ ময়দানে নিহত দম্পতির জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।

পরে মানিক পীর কবরস্থানে তাদের দাফন করা হবে।

অন্যদিকে মামলা না হওয়ায় আটক বাবুল মিয়াকে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠায় পুলিশ।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়।

পরে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

সিলেট কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মো. মাঈনুল জাকির বলেন, তিনজনকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় বাবুল মিয়াকে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। নিহত দম্পতির ছেলে দেশে আসার পর শুক্রবার মামলার এজাহার দেওয়া হতে পারে বলেও জানিয়েছিলেন তিনি।
 

নিহত গৃহকর্মী তাহমিনার মরদেহ বৃহস্পতিবার রাতে সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে নেওয়া হয়।

জানাজা শেষে সেখানে তার দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

একই ঘটনায় এখন তিনটি পরিবারের স্বজনরা শোকাহত।

ময়নাতদন্ত, ফরেনসিক পরীক্ষা এবং মামলার পর তদন্তে হত্যাকাণ্ডের পুরো রহস্য আরও স্পষ্ট হবে বলে আশা করছে পুলিশ। 

তবে শুরু থেকে পুলিশের কর্মকান্ডে সিলেট জুড়েই চলছে ব্যাপক সমালোচনা। কোনো মহলকে বাঁচাতে পুলিশ চেষ্টা করছে বলেও অনেকের অভিযোগ রয়েছে।
বাসার কিচেনরুম ড্রয়িং রুম এমনকি বাসায় প্রবেশের ফুটেজ রিলিজ করার জন্য অনেকেই দাবি করছেন।