শিরোনাম
সিলেটে ৩ খু/ন: বাবুলকে ৪ দিনের রিমান্ডে নিলো পুলিশ সিলেটের পাহাড়-নদী চষে বেড়াচ্ছে বিজিবি: আড়াই কোটি টাকার চালান জব্দ সিলেটে যে ভাইরাসে হাসপাতালে রোগীর ভিড়: আরেক মৃ/ত্যু নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নে ফের শঙ্কা শাহজালাল মাজারে এবার মিললো ‌৭০ লাখ ৮৮ হাজার টাকা: সাথে ২ ভরি স্বর্ণ, বৈদেশিক মুদ্রা সিলেটে টানা পাঁচ দিন বৃষ্টির আভাস সিলেটে মেয়েকে ধ/র্ষণের অভিযোগ করায় বাবাকে হ/ত্যা, গ্রে/প্তার আসামির ছেলে সিলেটে মেয়েকে ধ/র্ষণের অভিযোগ করায় পুলিশের উপস্থিতিতেই বাবাকে কু/পিয়ে খু/ন সিলেটে ৩ খু/নের প্রকৃত অপরাধী চিহ্নিতের নির্দেশ বাণিজ্যমন্ত্রীর ট্রিপল মা-র্ডার: মেয়ে সেলিনা সুলতানার এজহার, বাবুল মিয়াকে আ/সামী করা হয়নি

https://www.emjanews.com/

17819

international

প্রকাশিত

১৫ আগস্ট ২০২৬ ২০:৩৭

আপডেট

১৫ আগস্ট ২০২৬ ২১:২৫

আন্তর্জাতিক

নিরাপত্তা পরিস্থিতি উন্নত হলে ৩ লাখ রোহিঙ্গাকে ফেরত নেবে মিয়ানমার

প্রকাশ: ১৫ আগস্ট ২০২৬ ২০:৩৭

ছবি: সংগৃহীত

রাখাইন রাজ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি হলে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া প্রায় তিন লাখ রোহিঙ্গাকে নিজ দেশে ফেরত নিতে আগ্রহী মিয়ানমারের সেনাসমর্থিত সরকার। শনিবার (১৫ আগস্ট) দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

মিয়ানমার সরকার জানিয়েছে, বাংলাদেশ থেকে পাঠানো রোহিঙ্গাদের তালিকা যাচাই-বাছাই করে তাদের মধ্যে কয়েক লাখকে রাখাইন রাজ্যের সাবেক বাসিন্দা হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। যাচাই করা এসব রোহিঙ্গাকে নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্থিতিশীল হওয়ার পর বাংলাদেশ থেকে ফেরত নেওয়ার বিষয়ে কাজ চালিয়ে যাবে মিয়ানমার।

মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, বাংলাদেশ থেকে দেওয়া ৮ লাখ ২৮ হাজার ৮২৪ জন রোহিঙ্গার তালিকার মধ্যে গত জুলাইয়ের শেষ নাগাদ ৪ লাখ ২৬ হাজার ৫৪৫ জনের পরিচয় যাচাই করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৩ লাখ ৮ হাজার ৭৯৭ জনকে রাখাইনের বাসিন্দা হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে।

তবে ১ লাখ ১৩ হাজার ৫০৭ জনের পরিচয় সফলভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে মিয়ানমার। একই সঙ্গে ৪ হাজার ২৪১ জনকে ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে’ জড়িত বলে দাবি করেছে দেশটির সরকার।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, রাখাইন রাজ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্থিতিশীল হওয়ার পর যাচাই-বাছাই করা রোহিঙ্গা বাসিন্দাদের প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করবে মিয়ানমার।

২০১৭ সালে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নৃশংস অভিযানের পর প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। বাংলাদেশের হিসাব অনুযায়ী, ওই সময়ে আট লাখের বেশি রোহিঙ্গা সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। এর আগে থেকেই কয়েক লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অবস্থান করছিলেন।

সামরিক অভিযানের ব্যাপকতা ও সহিংসতার কারণে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গণহত্যা ও জাতিগত নিধনের অভিযোগ তোলে।

মিয়ানমার সরকার অবশ্য রোহিঙ্গাদের দেশটির স্বীকৃত ১৩৫টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে না। দেশটির কর্তৃপক্ষ তাদের ‘বাঙালি’ হিসেবে উল্লেখ করে থাকে।

রোহিঙ্গা সংকটের নবম বছরে এসে নতুন করে প্রত্যাবাসনের কথা জানাল মিয়ানমার। তবে এর আগে একাধিকবার প্রত্যাবাসনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি।

২০১৮ সালে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার দুই বছর মেয়াদি প্রত্যাবাসন কাঠামোতে সম্মত হয়েছিল। কিন্তু ২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের পর মিয়ানমারের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির ব্যাপক অবনতি ঘটে। জান্তা সরকারের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে সশস্ত্র প্রতিরোধ শুরু হয়।

এরপর ২০২৩ সালে রাখাইন রাজ্যের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও আরকান আর্মির মধ্যে নতুন করে সংঘাত শুরু হয়। বর্তমানে আরকান আর্মি রাখাইনের বড় একটি অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সংঘাতের কারণে রাখাইনে নতুন করে বাস্তুচ্যুতি তৈরি হয়েছে। একই সময়ে বাংলাদেশের রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরগুলোতে মানবিক সহায়তা কমে যাওয়া এবং দীর্ঘদিন ধরে প্রত্যাবাসন না হওয়ায় অনেক রোহিঙ্গা ঝুঁকি নিয়ে সমুদ্রপথে মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ায় যাওয়ার চেষ্টা করছেন। এ পথে অনেকে প্রাণও হারিয়েছেন।

এদিকে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হলেও নিরাপত্তা ও পরিবেশগত পরিস্থিতির কারণে তা কার্যকর হয়নি।

গত জুলাইয়ে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম জানিয়েছিলেন, মিয়ানমার তাদের দেশে থাকা পাঁচ হাজার রোহিঙ্গাকে ফেরত নিতে সম্মত হয়েছে। তবে মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা হান উইন অং তখন এপি-কে জানিয়েছিলেন, ওই কর্মসূচি কেবল মালয়েশিয়ার আটককেন্দ্রে থাকা যাচাই করা মিয়ানমারের নাগরিকদের মধ্যে সীমাবদ্ধ।

এ অবস্থায় রাখাইনের নিরাপত্তা পরিস্থিতি উন্নত হলে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া যাচাই করা রোহিঙ্গাদের ফেরত নেওয়ার মিয়ানমারের নতুন ঘোষণাকে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় নতুন উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে বাস্তবে প্রত্যাবাসন কবে শুরু হবে, তা নির্ভর করছে রাখাইনের নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সমঝোতার ওপর।