দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে অমীমাংসিত সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলায় সম্প্রতি নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) একটি বক্তব্য। যেখানে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম অন্য একটি মামলার সিডিআর (কল ডিটেইল রেকর্ড) পর্যালোচনার সময় সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে এক ‘সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের’ সম্পৃক্ততার ক্লু পাওয়ার দাবি করেন।
যদিও তদন্তের স্বার্থে ট্রাইব্যুনাল বা মূল তদন্তকারী সংস্থা পিবিআই আনুষ্ঠানিকভাবে কারও নাম প্রকাশ করেনি, তবুও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসান এবং অভিনেত্রী ও 'কার্যক্রম নিষিদ্ধ' আওয়ামী লীগনেত্রী রোকেয়া প্রাচীর যোগাযোগের বিষয়টি নিয়ে তীব্র জল্পনা ছড়ায়। যেখানে অভিযোগ ওঠে হত্যাকাণ্ডের সময় সংবেদনশীল কিছু ডিস্ক বা তথ্য হস্তান্তরের প্রক্রিয়ায় রোকেয়া প্রাচী সম্পৃক্ত থাকতে পারেন।
তবে সাগর-রুনি হত্যা মামলাটি একটি স্বতন্ত্র ফৌজদারি অপরাধ হওয়ায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারিক এখতিয়ারের বাইরে, তাই প্রাপ্ত সূত্রগুলো পিবিআইকে সরবরাহের কথা বলা হয়েছে এবং এসব দাবির নির্ভরযোগ্যতা বা বিশ্বাসযোগ্যতা এখনো পুরোপুরি যাচাই-বাছাই ও ফরেনসিক প্রমাণের অপেক্ষায় রয়েছে।
রাজনৈতিক ব্যক্তি ও প্রশাসনের অসংযোগের মুখে সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো এই তথ্যটি একটি বাস্তবসম্মত ‘ক্লু’ হিসেবে রহস্য উন্মোচনে ভূমিকা রাখবে, নাকি অতীতের মতো আড়ালেই থেকে যাবে; তা সম্পূর্ণ নির্ভর করবে পিবিআই ও টাস্কফোর্সের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং আনুষ্ঠানিক অবস্থান স্পষ্ট করার ওপর।
