https://www.emjanews.com/

18616

national

প্রকাশিত

১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৭:০৪

জাতীয়

ব্যবসায়ীর ঘাড়ে কোটি টাকার ঋণ: জালিয়াতির অভিযোগ ইসলামী ব্যাংকের ৬ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে

প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৭:০৪

চট্টগ্রামের এক আমদানিকারক নুরুল হুদার প্রতিষ্ঠানের নামে ১ কোটি ৩ লাখ টাকা ঋণ গ্রহণ ও ২ কোটি ৩৬ লাখ টাকার পণ্য আমদানির ঘটনায় ব্যাপক অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। তবে ওই ব্যবসায়ীর দাবি, তিনি কোনো ঋণ বা পণ্য- কোনোটিই হাতে পাননি।

সিআইডির তদন্ত প্রতিবেদনে ব্যাংকের ছয় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রাহকের অজান্তে স্বাক্ষর জালিয়াতি, ভুয়া ঋণ অনুমোদন ও এলসি খোলার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে।

তদন্তে বলা হয়, ইসলামী ব্যাংকের খুলশী শাখার মাধ্যমে নুরুল হুদার প্রতিষ্ঠান মেসার্স আল ওয়ালিদ ট্রেডিংয়ের নামে ঋণপত্র (এলসি) খুলে বিদেশ থেকে চীনসহ বিভিন্ন দেশ থেকে পণ্য আমদানি দেখানো হয়। কিন্তু এসব পণ্য গ্রাহকের অজান্তে অন্যরা খালাস করে ব্যবসা পরিচালনা করে।

সিআইডির তথ্য অনুযায়ী, মোট ১ কোটি ৩ লাখ ৬৮ হাজার টাকার ঋণ সৃষ্টি করা হয়। এর মধ্যে বর্তমানে ৮৭ লাখ ১৫ হাজার টাকা বকেয়া রয়েছে। পাশাপাশি ১ লাখ ৯৩ হাজার ৫১৫ ডলারের (প্রায় ২ কোটি ৩৬ লাখ টাকা) পণ্য আমদানির রেকর্ড পাওয়া গেছে।

বর্তমানে ঋণ খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত হওয়ায় ২০২২ সাল থেকে তার ব্যবসায়িক কার্যক্রম কার্যত বন্ধ রয়েছে।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এলসি খোলার সময় ব্যাংক কর্মকর্তারা গ্রাহকের কাছ থেকে স্বাক্ষর করা খালি চেক নিতেন। পরে সেই চেক ও নথি ব্যবহার করে গ্রাহকের অজান্তে ঋণ ও এলসি অনুমোদন করা হয়। পাশাপাশি এসএমএস অ্যালার্ট সিস্টেমও বন্ধ রাখা হয়, যাতে লেনদেনের তথ্য গ্রাহকের কাছে না পৌঁছায়।


তদন্তে ব্যাংকের কয়েকজন কর্মকর্তা ও সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন- সাবেক ম্যানেজার মোহাম্মদ মোরশেদুল আলম, সেকেন্ড অফিসার মো. মহিউদ্দিন, ফরেন এক্সচেঞ্জ কর্মকর্তা মুহাম্মদ জুবায়ের আলম চৌধুরী, জুনিয়র অফিসার রাফায়েত সালাহ উদ্দিনসহ কয়েকজন।

তবে অভিযুক্তরা বিষয়টি বিচারাধীন উল্লেখ করে মন্তব্য করতে রাজি হননি।

আদালতের নির্দেশে ফরেনসিক পরীক্ষায় ব্যাংক নথিতে থাকা স্বাক্ষরের সঙ্গে নুরুল হুদার স্বাক্ষরের অসামঞ্জস্য পাওয়া গেছে বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

২০২৫ সালের মার্চে দায়ের করা মামলায় ৯ জনকে আসামি করা হয়। বর্তমানে মামলাটি চার্জ শুনানির পর্যায়ে রয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনে কিছু আসামিকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হলেও বাদীপক্ষ এতে আপত্তি জানিয়েছে।

বাদীপক্ষের আইনজীবী দাবি করেন, পুরো ঘটনায় উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারাও পরোক্ষভাবে জড়িত ছিলেন এবং ফরেনসিক প্রমাণে জালিয়াতির বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে।

বর্তমানে মামলাটি বিচারিক প্রক্রিয়ায় এগোচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।