সিলেটে এক ভাইরাসের মধ্যে আরেকটি বেসামাল: প্রশাসনের অভিযান শুরু
প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৪:১৭
সিলেটে হামের প্রাদুর্ভাবের মধ্যেই ডেঙ্গু পরিস্থিতিও মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও চারজন ডেঙ্গুরোগী শনাক্ত হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছরে সিলেট বিভাগে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৭০ জনে।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের পরিচালক ডা. মো. মাহবুবুল আলম এ তথ্য নিশ্চিত করেন। সর্বশেষ হিসাবে নতুন শনাক্তদের মধ্যে সিলেটের জালালাবাদ রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একজন, হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে দুইজন এবং লাখাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একজন ভর্তি হয়েছেন।
চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিভাগে শনাক্ত ২৭০ জনের মধ্যে সিলেটে ৫২, সুনামগঞ্জে ৫৯, হবিগঞ্জে ১২০ এবং মৌলভীবাজারে ২৮ জন রয়েছেন। অন্য জেলা থেকে এসে চিকিৎসা নিয়েছেন আরও ১১ জন।
বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে ২৯ জন ডেঙ্গুরোগী চিকিৎসাধীন আছেন। এর মধ্যে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নয়জন, জালালাবাদ রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চারজন, পার্কভিউ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একজন, হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে তিনজন, মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুইজন, লাখাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঁচজন, সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে তিনজন এবং মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে দুইজন ভর্তি রয়েছেন।
চলতি মৌসুমে সর্বশেষ ৮ সেপ্টেম্বর জালালাবাদ রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার কৃষ্ণ দাস (৪৫) ডেঙ্গুতে মারা যান। এর আগে ২ আগস্ট সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আফিয়া খানম (৫৪) মারা যান।
এদিকে সিলেট বিভাগে হাম ও হাম-সন্দেহে আক্রান্ত রোগীর চাপও কমছে না। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ১২১ জন বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে বিভাগজুড়ে হাম ও হাম-সন্দেহে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৪১৮ জন। চলতি বছর এ রোগে আক্রান্ত ও সন্দেহভাজন হিসেবে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬০ জনে।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে সবচেয়ে বেশি ৮১ জন ভর্তি হয়েছেন।
এ পরিস্থিতি
তে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সিলেটে সমন্বিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু হয়েছে। শনিবার বিভাগীয় কমিশনার মো. মশিউর রহমান এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার আশরাফুর রহমান ও জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুনসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বিভাগীয় কমিশনার বলেন, মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমকে নিয়মিত সামাজিক উদ্যোগ হিসেবে নিতে হবে। সবাইকে স্বেচ্ছাসেবকের মতো এগিয়ে এসে এতে অংশ নিতে হবে। প্রতি শনিবার অন্তত এক ঘণ্টা করে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালালে ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে কার্যকর ফল পাওয়া সম্ভব।
জেলা প্রশাসক বলেন, আগামী তিন মাস সিলেট জেলায় প্রতি শনিবার ধারাবাহিকভাবে এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী বিভিন্ন এলাকায় পর্যায়ক্রমে অভিযান চালানো হবে। পাশাপাশি নিজ নিজ বাড়িঘর ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার বিষয়ে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
