https://www.emjanews.com/

18627

sylhet

প্রকাশিত

১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২১:১১

সিলেট

সুনামগঞ্জে ইউএনও অফিসের সামনে লুটের বালু মজুত

প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২১:১১

ছবি: সংগৃহীত

সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে প্রশাসনের খাস জমি ও জনসাধারণের চলাচলের স্থান দখল করে অবৈধ বালু মজুতের এক নজিরবিহীন ঘটনা ঘটেছে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই বালুর স্তূপ গড়ে তোলা হয়েছে খোদ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ের ঠিক সামনে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক তোলপাড় ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকালে তিনটি বড় নৌকায় করে কয়েক হাজার ঘনফুট বালু এনে উপজেলা পরিষদ চত্বরের ইউএনও কার্যালয়ের সামনে স্তূপ করা হয়। বালু রাখার ফলে পর্যটকদের বসার দুটি বেঞ্চ ভেঙে বালুর নিচে চাপা পড়ে যায়। প্রকাশ্যে প্রশাসনের নাকের ডগায় এমন কর্মকাণ্ড চললেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বাধা দেওয়া হয়নি, যা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে ফেসবুকে সরব হয়েছেন স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ ও সাধারণ নাগরিকরা। সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা আবুল কাশেম একে প্রশাসনের উদাসীনতা হিসেবে অভিহিত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

অন্যদিকে, স্থানীয় সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল এই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেন, তিনি কোনো অপরাধীকে আশ্রয় দেননি এবং জড়িতদের দ্রুত খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন।

সমালোচনার মুখে শনিবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন ইউএনও মেহেদী হাসান মানিক। এ সময় তিনি প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও পরিবেশ নষ্ট করে এমন কাজ মেনে নেওয়া যায় না। প্রশাসনের স্থাপনা ভেঙে বালু রাখার সাহস যারা দেখিয়েছে, তাদের ছাড় দেওয়া হবে না।’ তিনি দ্রুত এই বালু জব্দ করার এবং মালিককে খুঁজে বের করতে সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) নির্দেশ প্রদান করেন।

উল্লেখ্য, ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর থেকেই তাহিরপুরের ইজারাবিহীন শান্তিপুর নদী থেকে একটি প্রভাবশালী চক্র অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছে। প্রশাসন ও স্থানীয়রা নদী রক্ষায় বাঁশের বেড়া দিলেও ছোট ছোট নৌকায় করে বালু পাচার থামানো যাচ্ছে না। খোদ উপজেলা ভবনের সামনে বালু মজুতের এই ঘটনা অবৈধ বালু খেকোদের দুঃসাহসের চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন স্থানীয় সচেতন মহল।