ছবি: সংগৃহীত
তাহিরপুরে ইউএনও কার্যালয়ের সামনে মজুত করা প্রায় দুই হাজার ঘনফুট বালু জব্দের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বালুর মালিককে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। ইজারাবিহীন শান্তিপুর নদী থেকে অবৈধভাবে উত্তোলনের অভিযোগ থাকা এই বালু দিনদুপুরে তিনটি নৌকায় করে উপজেলা পরিষদ এলাকার সামনে এনে রাখা হয়েছিল।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত কয়েক হাজার ঘনফুট বালু এনে সেখানে মজুত করা হয়। বালুর স্তূপের নিচে চাপা পড়ে পর্যটকদের বসার দুটি বেঞ্চ। পরে বালুর ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শুরু হয় সমালোচনা।
বিষয়টি জানার পর শনিবার সকালে ঘটনাস্থলে যান তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান মানিক। বালুর স্তূপ দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি উপজেলা সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) বালু জব্দ এবং এর মালিককে খুঁজে বের করার নির্দেশ দেন।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত ব্যক্তিদের কাছে বালুর উৎস জানতে চাইলে ইউএনওকে জানানো হয়, এসব বালু শান্তিপুর নদী থেকে আনা হয়েছে। তখন তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘কত বড় সাহস, চিন্তা করা যায়?’
ইউএনও বলেন, উপজেলা প্রশাসনের সামনের পরিবেশ নষ্ট করার পাশাপাশি পর্যটকদের বসার দুটি বেঞ্চের ওপরও বালু রাখা হয়েছে। সেখানে প্রায় দুই হাজার ঘনফুট বালু থাকতে পারে। বালুর মালিককে এখনো শনাক্ত করা যায়নি।
স্থানীয় সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল বলেন, অসৎ কাজে কাউকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। বালু রাখার সঙ্গে জড়িতদের খুঁজে বের করে আটকের জন্য উপজেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।
তাহিরপুর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক বাদল মিয়া দাবি করেন, শান্তিপুর নদী থেকে বালু উত্তোলন ঠেকাতে বাঁশের বেড়া দেওয়া রয়েছে এবং বিএনপির কেউ এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন। উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মেহেদী হাসান উজ্জ্বলও ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেছেন।
উপজেলা প্রশাসন জানায়, শান্তিপুর নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে তারা কঠোর অবস্থানে রয়েছে। সংগৃহীত বালু জব্দের পাশাপাশি এর মালিককে শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ইজারাবিহীন শান্তিপুর নদী থেকে দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে বিভিন্ন স্থানে মজুত করছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময় অভিযান চালানো হলেও কিছুদিন পর আবারও বালু উত্তোলন শুরু হয়।
তবে এবার নদীর বালু গিয়ে মজুত হয়েছে উপজেলা প্রশাসনের কার্যালয়ের সামনেই। আর সেই বালুই এখন প্রশাসনের জব্দের তালিকায়।
