https://www.emjanews.com/

18755

surplus

প্রকাশিত

১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২২:৩৩

অন্যান্য

গ্রাহকের তথ্য জান্তাকে দেওয়ার অভিযোগ, টেলিনর সদর দপ্তরে অভিযান

মানবতাবিরোধী অপরাধে সহায়তা ও নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের অভিযোগ

প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২২:৩৩

ছবি: সংগৃহীত

মিয়ানমারে ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর দেশটির সামরিক জান্তাকে গ্রাহকদের সংবেদনশীল তথ্য দেওয়ার অভিযোগে নরওয়ের টেলিকম প্রতিষ্ঠান টেলিনরের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে নিষেধাজ্ঞাভুক্ত নজরদারি সরঞ্জাম স্থানান্তরের ঘটনায় নিষেধাজ্ঞা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) টেলিনরের অসলো সদর দপ্তরে অভিযান চালিয়েছে নরওয়ের পুলিশ ও নিরাপত্তা সংস্থা।

নরওয়ের কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, ২০২১ সালের ১ ফেব্রুয়ারি সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে ২০২২ সালের মার্চে টেলিনর মিয়ানমার থেকে ব্যবসা গুটিয়ে নেওয়া পর্যন্ত সময়ে প্রতিষ্ঠানটির স্থানীয় শাখা সামরিক কর্তৃপক্ষের কাছে গ্রাহকদের কল ও ট্রাফিক-সংক্রান্ত তথ্য সরবরাহ করেছিল। এই তথ্য সামরিক জান্তার মানবতাবিরোধী অপরাধে সহায়তা করেছে কি না, তা তদন্তের আওতায় রয়েছে।

এ ছাড়া টেলিনরের মিয়ানমার ব্যবসা বিক্রির সময় নিষেধাজ্ঞাভুক্ত নজরদারি সরঞ্জাম যথাযথ সরকারি অনুমোদন ছাড়া স্থানান্তর করা হয়েছিল কি না, সেটিও তদন্ত করা হচ্ছে।

মানবাধিকার সংগঠন জাস্টিস ফর মিয়ানমার ও ইন্টারন্যাশনাল কমিশন অব জুরিস্টস এ বিষয়ে নরওয়ের কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ ও নথিপত্র জমা দিয়েছিল।

অভিযানের বিষয়ে টেলিনর জানিয়েছে, মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানের পর তারা অত্যন্ত কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়েছিল। সামরিক কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অমান্য করলে স্থানীয় কর্মীদের কারাবন্দি, নির্যাতন কিংবা মৃত্যুদণ্ডের ঝুঁকি ছিল বলে দাবি প্রতিষ্ঠানটির। কর্মীদের জীবন রক্ষার স্বার্থে তখন তাদের হাতে কার্যত কোনো বাস্তব বিকল্প ছিল না বলেও জানিয়েছে টেলিনর।

প্রতিষ্ঠানটি আরও জানিয়েছে, তদন্তে তারা নরওয়ের কর্তৃপক্ষকে পূর্ণ সহযোগিতা করছে এবং দীর্ঘ সময় ধরে তদন্তকারী সংস্থাগুলোর সঙ্গে তথ্য ও নথিপত্র বিনিময় করেছে।

টেলিনরের ভাষ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো ব্যক্তি অভিযুক্ত বা তদন্তের আওতায় নেই; অভিযোগগুলো প্রতিষ্ঠানটির সাবেক মিয়ানমার কার্যক্রমকে কেন্দ্র করেই।

টেলিনর ২০২২ সালের মার্চে মিয়ানমারের ব্যবসা থেকে বেরিয়ে যায়। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সামরিক কর্তৃপক্ষের চাপের মধ্যে কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সে সময় তাদের অন্যতম প্রধান উদ্বেগ ছিল।

এদিকে মানবাধিকার সংগঠনগুলো নরওয়ের কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে। জাস্টিস ফর মিয়ানমার ও ইন্টারন্যাশনাল কমিশন অব জুরিস্টস বলেছে, টেলিনরের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের তদন্তের মাধ্যমে মিয়ানমারে সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

তদন্তের মাধ্যমে শেষ পর্যন্ত টেলিনরের কার্যক্রম মানবতাবিরোধী অপরাধে সহায়তার পর্যায়ে পড়েছিল কি না এবং নিষেধাজ্ঞা আইন লঙ্ঘন হয়েছিল কি না, তা নির্ধারিত হবে।