স্ত্রী হ/ত্যা মা/মলায় স্বামীর ১২ বছর কা/রাবাস: সেই স্ত্রী ছিলেন অন্যের সংসারে
প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০১:০৯
ছবি- এআই
ভারতের বিহার রাজ্যের রোহতাস জেলায় ২০১৪ সালের একটি হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ ঘিরে ১২ বছর পর নাটকীয় মোড় নেওয়া একটি ঘটনায় নতুন করে তদন্ত শুরু হয়েছে।
রোহতাস জেলার এক গ্রামে শকুন্তলা দেবী নামের এক নারী শ্বশুরবাড়ি থেকে নিখোঁজ হন ২০১৪ সালে। এরপর তার ভাই থানায় অভিযোগ করেন যে যৌতুকের দাবিতে শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে নির্যাতন করত। অভিযোগের মাত্র দুই দিনের মাথায় খান্ডা গ্রামের কাছে একটি খাল থেকে এক অজ্ঞাতপরিচয় নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পরিবারের দাবি ও স্থানীয় কর্মকর্তাদের শনাক্তকরণের ভিত্তিতে ওই মরদেহটিকে শকুন্তলা দেবীর বলে ধরে নেওয়া হয়। এরপর ময়নাতদন্ত শেষে মামলায় হত্যা ধারা যুক্ত করা হয়।
এই ঘটনায় শকুন্তলার স্বামী অরুণ মেহতা, শ্বশুর দিলীপ মেহতা ও দেবর গোবিন্দ কুমারসহ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। অরুণ মেহতা কিছুদিন কারাগারেও ছিলেন, পরে জামিনে মুক্তি পান। দীর্ঘদিন ধরে মামলাটি বিচারাধীন অবস্থায় ছিল।
তবে সম্প্রতি ঘটেছে নাটকীয় পরিবর্তন। খবর পাওয়া যায়, শকুন্তলা দেবীকে প্রতিবেশী রাজ্য ঝাড়খণ্ডের গড়ওয়া জেলায় দেখা গেছে। পরে পরিবারের সদস্যরা সেখানে গিয়ে তাকে শনাক্ত করেন। পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাকে ঝাড়খণ্ডের লাভারি গ্রাম থেকে উদ্ধার করে।
তদন্তে জানা যায়, তিনি সেখানে ‘কান্তি দেবী’ নাম ধারণ করে অন্য এক ব্যক্তির সঙ্গে বসবাস করছিলেন।
এরপর তাকে রোহতাসে ফিরিয়ে এনে সাসারামের আদালতে হাজির করা হয়েছে। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে প্রতারণা ও অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রসহ বিভিন্ন অভিযোগে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
এদিকে জীবিত ফিরে আসার পর পুরো মামলাটিই নতুন জটিলতায় পড়েছে। ২০১৪ সালে উদ্ধার হওয়া ওই মরদেহ আসলে কার ছিল, এবং কেন সেটিকে শকুন্তলা দেবী বলে শনাক্ত করা হয়েছিল—তা এখন নতুন করে তদন্ত করছে রোহতাস জেলা পুলিশ।
