বিশ্ববাজারে ১ সপ্তাহে তেলের দাম সর্বনিম্ন, দেশে কেন বাড়লো?
প্রকাশ: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১২:৩১
আন্তর্জাতিক বাজারে দরপতনের মধ্যেও দেশে জ্বালানি তেলের দাম সর্বোচ্চ পর্যায়ে ওঠায় ভোক্তাদের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিশ্ববাজারের তাৎক্ষণিক দামের চেয়ে আমদানি ব্যয়, পূর্বের লোকসান এবং সরবরাহ ব্যয়- এসব কারণেই দেশে উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে।
ইরান সংকট ঘিরে কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা ও সৌদি আরবের রপ্তানি আংশিক স্বাভাবিক হওয়ায় সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমে এক সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্নে নেমে আসে। ব্রেন্ট ক্রুড ব্যারেলপ্রতি ১০১ দশমিক ৭১ ডলার এবং মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট ৯৮ দশমিক ১৫ ডলারে নেমে যায়।
কিন্তু একই সময়ে দেশে ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রোল ও অকটেন- ব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়ানো হয়েছে। নতুন দামে ডিজেল ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৫৫ টাকা, পেট্রোল ১৬০ টাকা এবং অকটেন ১৬৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।
কেন এই বৈপরীত্য
বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, এর পেছনে কয়েকটি কারণ কাজ করছে- প্রথমত, আন্তর্জাতিক বাজারের দাম কমার প্রভাব তাৎক্ষণিকভাবে দেশে পড়ে না। বাংলাদেশ যে তেল আমদানি করে, তা আগের উচ্চমূল্যের চুক্তিতে কেনা হয়ে থাকে। ফলে সাম্প্রতিক দরপতনের সুবিধা পেতে সময় লাগে।
দ্বিতীয়ত, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে কয়েক মাস ধরে জ্বালানি তেলের দাম ও পরিবহন ব্যয় (ফ্রেইট) বেড়েছে। সরকার বলছে, সেই বাড়তি ব্যয়ের চাপ এখনো পুরোপুরি কমেনি।
তৃতীয়ত, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের বড় অঙ্কের লোকসান সমন্বয়ের বিষয়টি রয়েছে। মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত সংস্থাটির লোকসান দাঁড়িয়েছে ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। এই ক্ষতি আংশিক পুষিয়ে নিতে মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
চতুর্থত, ডলার বিনিময় হার বৃদ্ধি আমদানি ব্যয় বাড়িয়ে দিয়েছে। একই পরিমাণ তেল কিনতে আগের তুলনায় বেশি টাকা গুনতে হচ্ছে।
পঞ্চমত, কর, ভ্যাট, পরিবহন ও বিতরণ খরচ- এসব উপাদানও খুচরা দামে প্রভাব ফেলে, যা আন্তর্জাতিক দামের সঙ্গে সরাসরি ওঠানামা করে না।
প্রভাব কোথায় পড়বে
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার প্রভাব সরাসরি পরিবহন খরচ, কৃষি উৎপাদন ও পণ্য পরিবহনে পড়বে। ফলে নিত্যপণ্যের বাজারেও নতুন করে চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তবে আন্তর্জাতিক বাজারে দরপতন অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে দেশে দামের ওপর কিছুটা স্বস্তি আসতে পারে বলেও মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
