https://www.emjanews.com/

19291

national

প্রকাশিত

০৩ অক্টোবর ২০২৬ ১৯:৩৯

আপডেট

০৩ অক্টোবর ২০২৬ ১৯:৪৪

জাতীয়

তরুণদের সুসংগঠিত করতে খেলাধুলার বিকল্প নেই: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

প্রকাশ: ০৩ অক্টোবর ২০২৬ ১৯:৩৯

যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক।

খেলাধুলার মাঠে তরুণদের ফিরিয়ে এনে তাদের সুসংগঠিত করতে হবে। নিয়মিত খেলাধুলা ও সুস্থ সংস্কৃতির চর্চার মধ্য দিয়েই গড়ে উঠতে পারে সুন্দর, সুস্থ ও মাদকমুক্ত বাংলাদেশ- এমন মন্তব্য করেছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক।

শনিবার (৩ অক্টোবর) দিনাজপুর সরকারি কলেজে ‘জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় আন্তঃকলেজ ক্রীড়া প্রতিযোগিতা’র রংপুর বিভাগীয় পর্বের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, শুধু মাঠে প্রতিযোগিতা আয়োজন নয়, খেলাধুলাকে তরুণদের জীবন গঠনের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। তরুণ সমাজকে খেলাধুলার সঙ্গে সম্পৃক্ত করে তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি মাদক ও নানা ধরনের নেতিবাচক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখা সম্ভব।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, খেলাধুলার উন্নয়ন, খাল খনন ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির মতো উদ্যোগ দীর্ঘদিনের পরিকল্পনার অংশ। গত সাত মাসে এসব পরিকল্পনার বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী ক্রীড়া খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

ক্রীড়াবিদদের পেশাগত স্বীকৃতি ও সহায়তার প্রসঙ্গে আমিনুল হক বলেন, ইতোমধ্যে ৩০০ জন খেলোয়াড়কে ক্রীড়া ভাতা দেওয়া হয়েছে। চলতি মাসের শেষ নাগাদ আরও খেলোয়াড় ও কোচকে এই কর্মসূচির আওতায় আনা হবে।

তিনি জানান, ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এর প্রথম ধাপ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচিত ৩০৬ জন উদীয়মান ও প্রতিভাবান অ্যাথলেট বর্তমানে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে (বিকেএসপি) উন্নত প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন।

সারাদেশে ক্রীড়া অবকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আধুনিক ‘স্পোর্টস ভিলেজ’ প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি প্রতিটি উপজেলায় মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণে কাজ করছে মন্ত্রণালয়। স্থানীয় পর্যায় থেকে প্রতিভাবান খেলোয়াড় তুলে আনতে দিনাজপুর বিকেএসপিকে পূর্ণাঙ্গ ও স্বয়ংসম্পূর্ণ প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

যুবকদের কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়নের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের অধীনে বর্তমানে ৮৩টি ট্রেডে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। ফ্রিল্যান্সিং ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) মাধ্যমে তরুণদের দক্ষ করে তোলার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। গত ছয় মাসে ফ্রিল্যান্সিং খাত থেকে ৩৪ কোটি টাকা বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হয়েছে।

আমিনুল হক বলেন, সরকারের ‘আর্ন’ প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের ৯ লাখ যুবক ও যুব নারীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। দিনাজপুরের ১০টি উপজেলাতেও এ প্রকল্প পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন করা হবে।

প্রতিহিংসার রাজনীতি পরিহার করে দেশ গঠনে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, দল-মত নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যেতে হবে। তরুণদের মাঠমুখী করা এবং খেলাধুলার সুস্থ সংস্কৃতি ছড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যমেই একটি সুন্দর, সুস্থ ও মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

এ ছাড়া বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন স্থানীয় সংসদ সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম।