বসতভিটা নেই, তাই চাকরি হবে না! নির্বাচিত হয়েও আটকে ছিল মিশন আচার্য্যের নিয়োগ
প্রকাশ: ০২ অক্টোবর ২০২৬ ২২:৫৪
ছবি: সংগৃহীত
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের জন্য নির্বাচিত হয়েছিলেন মিশন আচার্য। মেধাক্রমে উপজেলা পর্যায়ে তার অবস্থান ছিল ১৭তম। কিন্তু স্থায়ী ঠিকানায় নিজের কোনো বসতভিটা নেই-এই কারণে নিয়োগ আটকে যায় তার। নির্বাচিত হয়েও চাকরি না পাওয়ার এমন ঘটনায় ক্ষোভ ও আলোচনা তৈরি হলে অবশেষে বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী মিশন আচার্যের বাড়ি ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কলাবাগান এলাকায়। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগে তার নাম সুপারিশ করা হলেও শেষ পর্যন্ত নিয়োগপত্র পাননি তিনি।
মিশনের দাবি, উপজেলা পর্যায়ে ১৮২ জনকে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়েছিল। এর মধ্যে ১৮০ জনকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছে। বাকি দুজনের একজনের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। আর অন্যজন তিনি নিজে।
তার ক্ষেত্রে নিয়োগ আটকে যাওয়ার মূল কারণ হিসেবে উঠে আসে স্থায়ী ঠিকানায় বসতভিটা না থাকা।
মিশন জানান, তার বাবা বহু বছর আগে পরিবার ছেড়ে চলে যান। ফলে বাবার ঠিকানা থেকেও তিনি বঞ্চিত হন। এরপর থেকে মায়ের সঙ্গে ঝিনাইদহে ভাড়া বাসায় বসবাস করছেন তিনি। তবে তার দাবি, কলাবাগান এলাকাতেই তার জন্ম এবং জন্মের পর থেকে সেখানেই বসবাস করছেন।
নিয়োগের জন্য নির্বাচিত হওয়ার পরও বসতভিটা না থাকার কারণে চাকরি না পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে যোগাযোগ করা হয়। পরে বিষয়টি নজরে আসে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খানের।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) নিজের ফেসবুক পোস্টে রাশেদ খান জানান, তিনি শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন। দ্রুতই সমস্যার সমাধান হবে এবং মিশন শিগগিরই নিয়োগ পাবেন বলেও জানান তিনি।
রাশেদ খান লিখেছেন, ‘আমি একটু আগে আমাদের শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছি। বিষয়টি দ্রুতই সমাধান হবে এবং সে (মিশন) শিগগিরই নিয়োগ পাবে।’
মিশন আচার্যও রাশেদ খানের সঙ্গে কথা হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, তাকে আশ্বস্ত করা হয়েছে এবং ঢাকায় গিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের বিষয়েও কথা হয়েছে।
ফলে বসতভিটা না থাকায় নির্বাচিত হয়েও যে চাকরি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল, শেষ পর্যন্ত সেই নিয়োগ পাওয়ার পথই এখন খুলছে মিশন আচার্যের।
