দক্ষিণ সুরমায় রাসেল হত্যা মামলা: সুনামগঞ্জ থেকে ছাত্রদল নেতা ফাহিম ও সামাদ গ্রেফতার
প্রকাশ: ০৯ অক্টোবর ২০২৬ ১১:৩৮
আসামি ফাহিম ও সামাদ (ছবি সংগৃহীত)
সিলেটের দক্ষিণ সুরমার সিলামে চাঞ্চল্যকর রাসেল আহমদ শাহ হত্যা মামলায় এজাহারনামীয় দুই আসামিকে গ্রেফতার করেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী (এসআরবি)।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চালানো বিশেষ অভিযানে সুনামগঞ্জ থেকে তাঁদের আটক করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামিরা হলো সিলেট জেলা দক্ষিণ সুরমা উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল মুকিত এর ছেলে ইয়াসিন আহমদ ফাহিম (৩৩) এবং সহকারী যুগ্ম সম্পাদক আছির মিয়ার ছেলে আব্দুস সামাদ (৩০)। মামলায় তারা যথাক্রমে ৩ ও ৪ নম্বর আসামি ।
গত ২ অক্টোবর (শুক্রবার) জুমার নামাজের পর দুপুরে মোগলাবাজার থানাধীন সিলাম চকের বাজার এলাকার শাহ হুমায়ুনের দোকানের সামনে পূর্ব বিরোধের জের এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লেখালেখির বিরোধ নিয়ে আসামিরা রাসেল শাহকে কুপিয়ে হত্যা করে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে রাসেল শাহ ছিলেন বিরোধের মীমাংসাকারী।
রাসেলের ময়না তদন্ত দাফন শেষে গত রোববার (৪ অক্টোবর) নিহতের মা মোছাঃ রাজনা বেগম বাদী হয়ে সিলেট মহানগর পুলিশের (এসএমপি) মোগলাবাজার থানায় এ হত্যা মামলাটি করেন। বাদীর পক্ষে তাঁর দেবর সুমন শাহ পিসির টাইপকৃত এজাহারটি থানায় জমা দিলে পুলিশ তা নিয়মিত মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করে। মামলাটিতে ২২ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১০-১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার তদন্তভার দেওয়া হয়েছে মোগলাবাজার থানার সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) রাজীব পালকে।
মামলার আসামিরা হলো সিলাম শেখপাড়ার ফজলু মিয়া (৫৫), আবেদ রাজা (৫৫), রনি (৩৫), তানিম আহমদ (২৪), সুমন আলী (৩৪), শহিদ আলী (২৮), কামরান (২৪), মাহবুব (২০), জুবায়ের আহমদ জুবের (২২), রাফি (২০), সালমান (২৫), আহমদুর রহমান সাদেক (৪০), মাছুম (২৫), মহিম (২২), রাজু মিয়া (৫৪), মজাহিদ আলী (৩৭), আলী রুবেল (৩৩), গুলি সুয়েব (৫৫); সিলাম নয়াপাড়ার সিরাজুল ইসলাম (৫২) এবং চান্দাই বনু টিলার উজ্জ্বল মিয়া (৩৫)।
হত্যাকাণ্ডের পর নিহতের আত্মীয়-স্বজন এবং প্রত্যক্ষদর্শীরা স্থানীয় মাজারের দখল নেওয়াকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের লেখালেখির কারণেই রাসেলকে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ করেন এবং তাতে স্থানীয় এমপির লোকজন জড়িত বলে তারা অভিযোগ করেন।
যদিও এমপি এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন। এবং সাংবাদিকদের সাথে ফোন কলে নিহতের মাকে নিয়ে বিষোদগার করেন করেন।
পুলিশ ঘটনার পর থেকে সিসিটিভির ফুটেজ সংগ্রহ করে তদন্তে নামে। তারা ফুটেজ থেকে ১২ জনকে চিহ্নিত করে গ্রেফতারের জন্য বিশেষ অভিযান শুরু করে। ঘটনার পর থেকে সবাই আত্মগোপনে চলে যাওয়ায় আসামিদের গ্রেফতার করা যাচ্ছিল না। বৃহস্পতিবারে মামলার অন্যতম আসামি দুজনকে সুনামগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করেছে এসআরবি।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা রাজীব পাল জানান, ঘটনার পর থেকে আসামিরা আত্মগোপনে ছিল। সুনামগঞ্জ থেকে এজাহারনামীয় দুই আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং বাকি আসামিদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
