সংগঠিত অভিবাসন অপরাধ দমন, ভিসা ও নথিপত্র জালিয়াতি প্রতিরোধ এবং অপরাধী চক্রের শোষণ থেকে ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের সুরক্ষায় নতুন সহযোগিতা কাঠামো গঠনে সম্মত হয়েছে বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্য।
রোববার ঢাকায় ব্রিটিশ হাইকমিশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়েছে, অবৈধ অভিবাসনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র ও ভিসা জালিয়াতিসহ বিভিন্ন অপরাধ শনাক্ত, প্রতিরোধ ও মোকাবিলায় দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদার করা এই উদ্যোগের লক্ষ্য।
নতুন কাঠামোর আওতায় প্রতারণার মাধ্যমে অভিবাসীদের শোষণকারী অপরাধী চক্রগুলোকে শনাক্ত ও মোকাবিলায় তথ্য বিনিময় এবং কার্যকর সমন্বয় বাড়াবে দুই দেশ।
এ ছাড়া অগ্রগতি পর্যালোচনা, তথ্য আদান-প্রদান এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনার জন্য নিয়মিত দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক বলেন, নতুন এই উদ্যোগ ঢাকা ও লন্ডনের দীর্ঘদিনের অংশীদারিত্ব এবং অভিবাসনসংক্রান্ত অপরাধ মোকাবিলায় দুই দেশের যৌথ অঙ্গীকারের প্রতিফলন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের সম্পর্ক পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে। আর্থিক লাভের উদ্দেশ্যে অভিবাসনকে কাজে লাগানো সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের হাত থেকে নাগরিকদের সুরক্ষায় দুই দেশের যৌথ সংকল্পের বহিঃপ্রকাশ এই উদ্যোগ।
সারাহ কুক আরও বলেন, দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা বাড়লে নিরাপদ ও আইনানুগ অভিবাসন উৎসাহিত করার পাশাপাশি অভিবাসনসংক্রান্ত জালিয়াতি, শোষণ ও মানব পাচার প্রতিরোধে সহায়তা করবে।
ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার মাধ্যমে সংগঠিত অভিবাসন অপরাধ মোকাবিলা, বৈধ অভিবাসনকে সমর্থন এবং জালিয়াতি, শোষণ ও পাচার থেকে ব্যক্তি ও পরিবারকে সুরক্ষার প্রচেষ্টা জোরদার করবে দুই দেশ।
ব্রিটিশ হাইকমিশনের ভাষ্য অনুযায়ী, অনিরাপদ ও অনিয়মিত অভিবাসনের সুযোগ নিয়ে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়া অপরাধী চক্রের হাত থেকে বাংলাদেশি নাগরিকদের সুরক্ষায় এ উদ্যোগ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে আন্তসীমান্ত অভিবাসন অপরাধ মোকাবিলা এবং সম্ভাব্য অভিবাসীদের শোষণ থেকে রক্ষায় দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
